Jagonews24
পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় আদিকাল থেকেই নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তারই ধারাবাহিকতায় সমকালীন জলবায়ু সংকট ও পরিবেশদূষণ রোধে একবিংশ শতাব্দীর নারী শিক্ষার্থীদের সচেতনতা, চিন্তা-ভাবনা ও মতামতগুলো তুলে ধরেছেন আমানুর রহমান— ঋতুর ছন্দপতনে প্রকৃতির নীরব বার্তা তীব্র দাবদাহ এখন চরম দুর্ভোগের নাম। সাধারণত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে অসহনীয় গরম অনুভূত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে। তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন হাঁসফাঁস করছে; তখন বদলে যাচ্ছে স্বাভাবিক ঋতুচক্রও। একদিকে যেমন উষ্ণতা বাড়ছে; অন্যদিকে তেমনই সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও বন্যা। মানুষের অসচেতন কর্মকাণ্ডই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ। শিল্পকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া, বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির যথেচ্ছ ব্যবহার গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমন বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে; বাড়ছে হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতাসহ নানা রোগের ঝুঁকি। গরম থেকে সুরক্ষায় পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা পোশাক পরিধান ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস জরুরি। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংকট উত্তরণে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। বেশি করে গাছ লাগানো, বৃক্ষনিধন বন্ধ করা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ওপর জোর দিতে হবে। আমাদের দায়িত্বহীন আচরণ অব্যাহত থাকলে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাবে, যার বাস্তব প্রতিফলন আজকের এসব দুর্যোগ। আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তুলি। তানজিনা আক্তার চৈতি, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকিতে প্লাস্টিক বর্জ্য প্লাস্টিক দূষণ আজ আমাদের অস্তিত্বের জন্য নীরব মহাবিপর্যয়। প্রতিদিন ব্যবহৃত পলিথিন, বোতল বা স্ট্রয়ের মতো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক যত্রতত্র ফেলে আমরা নিজেদের বিপদই ডেকে আনছি। এসব বর্জ্য শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে জলাবদ্ধতাই সৃষ্টি করছে না; বরং শত বছরেও পচে না গিয়ে রূপ নিচ্ছে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’-এ। মাটি ও পানির মাধ্যমে এ বিষাক্ত কণা প্রবেশ করছে জলজ প্রাণীর দেহে। আর সেই দূষিত মাছ বা খাবারের মাধ্যমেই প্লাস্টিক সরাসরি ঢুকছে আমাদের শরীরে, যা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের সম্মিলিত দাবি—অবিলম্বে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না বরং নিয়মিত অভিযান ও জরিমানার মাধ্যমে এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আসুন, প্লাস্টিকের এ অভিশাপ থেকে নিজেদের ও আগামী প্রজন্মকে রক্ষা করি। মাহজাবীন তাসনীম রুহী, শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট। নগরায়ণে চাই দূষণমুক্ত পরিবেশ আমাদের ইট-পাথরের ব্যস্ত শহরগুলো আজ অদৃশ্য বিষবাষ্পে বন্দি। একসময়ের প্রাণবন্ত নগরীগুলো এখন ধূলিধূসরিত, যেখানে বুক ভরে বিশুদ্ধ বাতাস নেওয়ার সুযোগটুকুও ক্রমশ ফুরিয়ে আসছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্মাণকাজের ধুলো, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং অবৈধ ইটভাটার দূষণে চারপাশ আজ চরমভাবে বিপর্যস্ত। বিশ্বব্যাংকের মতে, এ ভয়াবহ বায়ুদূষণ আমাদের গড় আয়ু পাঁচ বছরেরও বেশি কমিয়ে দিচ্ছে। বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর পিএম২.৫ কণা সরাসরি ফুসফুস ও রক্তে মিশে হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছে শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা। সুস্থ ও নির্মল পরিবেশ পাওয়া আমাদের মৌলিক অধিকার। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এ শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে বাঁচাতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কলকারখানার আধুনিকায়ন, নির্মাণাধীন এলাকা ঢেকে রাখা এবং দূষণকারী যানবাহন চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। সোমনা আক্তার, শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার। গাছ বাঁচাই, পাখি বাঁচাই গাছ আমাদের পরম বন্ধু, অথচ আমরাই তার সবচেয়ে বড় শত্রু। নিজেদের সাময়িক প্রয়োজনে নির্বিচারে গাছ কাটছি, ভুলে যাচ্ছি এর সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রভাবের কথা। এ ধ্বংসযজ্ঞের নীরব শিকার হচ্ছে আমাদের চারপাশের পাখিরা। পৃথিবীর জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখির ভূমিকা অনস্বীকার্য; তাদের কলকাকলিতেই প্রকৃতি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কিন্তু বন-জঙ্গল উজাড় হওয়ার ফলে নিরীহ এই প্রাণীরা নিরাপদ আশ্রয় হারাচ্ছে। বাসস্থানের অভাবে অনেক প্রজাতির পাখি আজ বিলুপ্তির পথে। আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি গাছ কাটা মানে কেবল উদ্ভিদ ধ্বংস করা নয় বরং অসংখ্য পাখির নীড় ভেঙে ফেলা। তাই পাখিদের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ করা জরুরি। আসুন অঙ্গীকার করি—প্রয়োজনে একটি গাছ কাটলে অন্তত দুটি চারা রোপণ করব। এভাবেই সুরক্ষিত হবে পরিবেশ, আর পাখিরা ফিরে পাবে তাদের নিরাপদ নীড়। রেশমী আকতার, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম কলেজ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবুজ শক্তির গুরুত্ব জীবাশ্ম জ্বালানির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে নির্গত গ্রিন হাউজ গ্যাস বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে। সীমিত এই জ্বালানি একসময় ফুরিয়ে যাবে, তাই বিকল্প ও নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস সন্ধান এখন সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে সূর্যালোক, বায়ুপ্রবাহ ও নদী স্রোতের মতো পরিবেশবান্ধব শক্তির অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও কার্যকর উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, কর্মকর্তাদের আবাসন ও যানবাহনে সবুজ শক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্র একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। পাশাপাশি সোলার প্যানেল এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহন সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী হিসেবে বাংলাদেশের জন্য পরিবেশ রক্ষা কোনো বিলাসিতা নয় বরং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। তাই এ বিষয়ে উদাসীনতা পরিহার করে আমাদের এখনই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে হবে। শামা মেহজাবিন, শিক্ষার্থী, রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজ, রাজশাহী। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় তারুণ্যের শক্তি বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন এক ভয়াবহ সংকট। দুঃখজনক হলেও সত্য, এর মূল দায়ভার ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোর। বছরের পর বছর ধরে তাদের অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নিঃসরণের মাশুল গুনছে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো, যা স্পষ্টতই বৈশ্বিক অন্যায়। পরিবেশ রক্ষা করা আমাদের মৌলিক অধিকার এবং একই সঙ্গে পবিত্র দায়িত্ব। তাই এ অবিচারের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকেই এখন সচেতনভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের সম্মিলিত প্রতিবাদ ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে। তরুণদের উচিত দেশজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করা এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে শক্তিশালী জনমত গঠন করতে হবে। আমাদের আজকের এ যৌথ উদ্যোগ ও সোচ্চার কণ্ঠস্বরই নিশ্চিত করতে পারে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সবুজ ও টেকসই পৃথিবী। সাদিয়া জা. হক, শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ, ফেনী। আরও পড়ুনআর কত ইরা, আছিয়া, রামিসা গেলে বিচার পাবো? এসইউ
Go to News Site