Somoy TV
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৭টি রয়েছে ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে। আর ৬৩টি ওয়ার্ডে পাওয়া গেছে মশার বেশি ঘনত্ব। আর মোট মশার লার্ভার ৮৭ শতাংশই ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপে’ উঠে এসেছে এমন তথ্য। দক্ষিণ সিটির প্রশাসক জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব ধরনের কার্যক্রম করছেন তারা। বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গু মুক্ত সিটি গড়া সম্ভব।চলতি বছর মৌসুম শুরুর আগেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির পর তীব্র গরমে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। বিগত কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে। এর মধ্যে আবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি। তাই এবার বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গু নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সিটি করপোরেশন। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘প্রাক-বর্ষা এডিস মশার লার্ভা জরিপ’ কার্যক্রম ১২ মে শুরু করে ডিএসসিসি। ১২ দিনে জরিপ করা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের ২২৩৮টি বাড়িতে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা দক্ষিণের নগর ভবনে এ জরিপের ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরে সিটি করপোরেশন। এ সময় প্রশাসক আব্দুস সালাম জানান, দক্ষিণ সিটির ২৮১টি বাড়িতে পাওয়া গেছে লার্ভা। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশ লার্ভাই এডিস মশার। আরও পড়ুন: বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এছাড়া ৬৩টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটির অন্তত ২৭টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। জরিপের ফলাফল অনুযায়ী প্রতিরোধ কার্যক্রমের ঘোষণা দেন প্রশাসক। এ সময় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি। এছাড়া ডেঙ্গু চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ বেড বিনামূল্যে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, সব নাগরিকের অংশগ্রহণ জরুরি বলে মন্তব্য করেন আব্দুস সালাম। গত ২ জুন এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের সব বেসরকারি হাসপাতালে ১০ শতাংশ বেড ফাঁকা রাখতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর টেস্টে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিতে হবে। শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ রোগী বহন করবে। ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের পরামর্শ ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।
Go to News Site