Somoy TV
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থেকে উদ্ধার করা কামানের ৩টি গোলা অবশেষে ১৭ দিন পর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এতে আতঙ্ক কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসির মাঝে।বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ঈদগাঁও উপজেলার ভোমরিয়াগোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে নিষ্ক্রিয় করা হয় বলে জানিয়েছেন ঈদগাঁও থানার পরিদর্শক এটিএম সিফাতুল মাজদার। তিনি বলেন, গত ১৮ মে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নতুন অফিস এলাকায় কামানের গোলার সদৃশ তিনটি বস্তু উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। সিফাতুল মাজদার বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে বস্তুগুলো কামানের গোলার সদৃশ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। পরবর্তীতে এগুলো নিরাপদে ধ্বংস করার দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোম্ব ডিসপোজাল টিমকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদগাঁও উপজেলার ভোমরিয়াগোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট একটি নিরাপদ বিস্ফোরণ এলাকা প্রস্তুত করে। সেখানে মাটি খনন ও চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পর কামানের গোলার সদৃশ বস্তুগুলো নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। সিফাতুল মাজদার আরও বলেন, কামানের গোলাগুলো নিস্ক্রিয় করায় এলাকায় আতঙ্ক কেটে গেছে। এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আরও পড়ুন: কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে সেলফি-ভিডিও তুলতে গিয়ে স্রোতে ভেসে পর্যটক নিখোঁজ এদিকে কামানের গোলাগুলো নিষ্ক্রিয় করার সময় দূর থেকে দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করে। আর কামানের গোলাগুলো বিস্ফোরিত হবার পর অনেকেই ভয় পান। আবার অনেকেই স্বস্তি ফিরেছে বলেও মন্তব্য করেন। ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুল আজিম জানান, ভারুয়াখালী এলাকা থেকে তিনি লোহা-লক্কড়ের সঙ্গে গোলাকৃতির কিছু ধাতব বস্তু সংগ্রহ করেছিলেন। প্রথমে তিনি ধারণা করেছিলেন, এগুলো কোনো বড় গাড়ির পুরোনো যন্ত্রাংশ বা ধাতব অংশ। সেই ধারণা থেকেই তিনি বস্তুগুলো কিনে নিজের কাছে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, পরে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে গেলে ক্রেতারা বস্তুগুলো দেখে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং জানান, এগুলো বোমা বা বিস্ফোরক জাতীয় কিছু হতে পারে। বিষয়টি শুনে তিনি বস্তুগুলো একটি ছালার বস্তায় ভরে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজনকে দেখান। তারাও এগুলোকে বোমাসদৃশ বলে ধারণা করেন। নুরুল আজিম আরও বলেন, বস্তুগুলো বাড়িতে রাখা নিরাপদ মনে হয়নি। তাই আমি দ্রুত প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রাখে। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও এসে বস্তুগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং এগুলো বিপজ্জনক বলে নিশ্চিত হন।’ আরও পড়ুন: কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গনে গোলাগুলির ঘটনায় ২ মামলা তিনি বলেন, কামানের গোলাগুলো দীর্ঘ সময় আমার বাড়ির আঙিনায় থাকায় আমি ও এলাকার মানুষ বেশ আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। পরে পুলিশ সেগুলো নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে নিষ্ক্রিয় করায় এখন আমি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি অনুভব করছি।’ উল্লেখ্য, গত ১৮ মে ঈদগাঁও উপজেলার নতুন অফিস এলাকার ভাঙারি ব্যবসায়ী নুরুল আজিমের বাড়ি থেকে কামানের ৩টি গোলা উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
Go to News Site