Collector
ফুটবল খেলার জেরে ভৈরবে সংঘর্ষ: নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল | Collector
ফুটবল খেলার জেরে ভৈরবে সংঘর্ষ: নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল
Somoy TV

ফুটবল খেলার জেরে ভৈরবে সংঘর্ষ: নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি, স্বাভাবিক ট্রেন চলাচল

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রায় সাত ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি দোকানপাট। সংঘর্ষের কারণে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছিল পাঁচটি ট্রেন। পরে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর মহানগর গোধূলি ও কিশোরগঞ্জগামী এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ভৈরব স্টেশন ত্যাগ করে।জানা যায়, ভৈরবের জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি গ্রামের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলার সময় দুই গ্রামের কয়েকজন যুবকের মধ্যে মারামারি হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জগন্নাথপুর এলাকার কয়েকজন যুবক পঞ্চবটি এলাকায় গেলে তাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই গ্রামই রেলস্টেশনের আশপাশে হওয়ায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে স্টেশন এলাকায়। রেললাইনের পাশে থাকা পাথর ব্যবহার করে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ২০ জনকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আরও পড়ুন: রেলপথে ঢাকায় ফেরাদের ভোগান্তি থাকলেও নেই সড়ক ও নৌপথে রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ভৈরব রেলসেতু এলাকায়, পারাবত ও এগারসিন্ধু এক্সপ্রেস দৌলতকান্দি স্টেশনে এবং চট্টগ্রামগামী চট্টগ্রাম মেইল ও তূর্ণা নিশিথা বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এ সময় দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা এবং স্টেশনগুলোতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভৈরব রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, রাত ৮টা থেকে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্টেশনে পাঁচটি ট্রেন আটকা পড়েছিল। ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুই গ্রামই স্টেশনের পাশে হওয়ায় সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে স্টেশন এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচলও বন্ধ ছিল। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, এই সংঘর্ষের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে এবং সরকারি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Go to News Site