Collector
পোকায় ধরা মা ঘুণে ধরা সমাজ, ইসলাম কী বলে? | Collector
পোকায় ধরা মা ঘুণে ধরা সমাজ, ইসলাম কী বলে?
Jagonews24

পোকায় ধরা মা ঘুণে ধরা সমাজ, ইসলাম কী বলে?

বর্তমান সময়ে মানবিক মূল্যবোধের অভাব প্রকটতর হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ঢাকার মিরপুর-১১ নম্বরে একটি বাসা থেকে ৭৫ বছর বয়সি নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মরে একা পড়ে ছিলেন এই মা। জীবনের শেষ মুহূর্তে পাশে ছিল না কোনো সন্তান। অথচ এই মায়ের সন্তানরা সবাই প্রতিষ্ঠিত।  সমাজবিজ্ঞানীদের গবেষণা এটা প্রমাণ করছে যে, আধুনিক শিক্ষাদীক্ষা মানুষের জ্ঞানবুদ্ধি বিকশিত করছে, কিন্তু সামাজিক অবক্ষয়রোধে যে মূল্যবোধের প্রয়োজন তার অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে সর্বত্র। শিক্ষা মানুষকে প্রজ্ঞাবান করলে বিবেকবান করতে অনেকাংশে ব্যর্থ। ফলে কখনো কখনো আমরা এমন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে উঠি, যা আমাদের সমস্ত জ্ঞান গরিমাকে সমাজের চোখে বেমানান করে তোলে। জীবনসায়াহ্নে সন্তানের সেবা পাওয়া বাবা-মায়ের একমাত্র চাওয়া। তাই বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেওয়া, দেখাশোনা করা প্রত্যেক সন্তানের কর্তব্য। আইনগতভাবেও সন্তানেরা বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে বাধ্য। কিন্তু উল্টো ঘটনা আমাদের চোখে পড়ছে।  আধুনিক শিক্ষিত সমাজের অনেকে মা-বাবার প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারে না। জীবনের পড়ন্ত বেলায় আপন সন্তানের চরম অবহেলা-অনাদরে নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করছে, এমন হতভাগ্য মা-বাবার সংখ্যা এ দেশে নেহাত কম নয়। মা যেভাবে নি:শ্বার্ত ভালোবাসে তার সন্তানদের এমন ভালোবাসা কী পৃথিবীর আর কারো মাঝে পাওয়া যায়? মায়ের জন্য ভালোবাসা চিরন্তন, অনাবিল। মায়ের জন্য ভালোবাসা অকৃত্রিম। নবি করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, “বেহেশত মায়ের পায়ের পদতলে অবস্থিত।” অর্থাৎ মাকে যথাযোগ্য সম্মান দিলে, তার উপযুক্ত খিদমত করলে এবং তার হক আদায় করলে সন্তান বেহেশত লাভ করতে পারে। পিতা-মাতার সেবা যত্ন জীবনভর সেবা করার শিক্ষা আল্লাহপাক আমাদের দিয়েছেন।  পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, আর তোমার প্রভু-প্রতিপালক একমাত্র তাঁরই ইবাদত করার এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্‌ব্যবহার করার তাগিদপূর্ণ আদেশ দিয়েছেন। তোমার (জীবদ্দশায়) তাদের একজন বা উভয়েই বার্ধক্যে উপনীত হলে তুমি তাদের উদ্দেশ্যে বিরক্তিসূচক ‘উহ্’-ও বলো না এবং তাদেরকে বকাঝকা করো না, বরং তাদের সাথে সদা বিনম্র ও সম্মানসূচক কথা বলো। আর তুমি মমতাভরে তাদের উভয়ের ওপর বিনয়ের ডানা মেলে ধর। আর দোয়ার সময় বলবে, ‘হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি সেভাবে দয়া করো যেভাবে শৈশবে তারা আমায় লালন-পালন করেছিল।’ (সুরা বনি ইসরাঈল: ২৩-২৪) সন্তানের উচিত বাবা-মা বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের সঙ্গে ধৈর্যশীল হওয়া। এটি সন্তানের প্রতি বাবা-মার প্রাপ্য অধিকার। বাবা-মা যদি কাছে না থাকেন তাহলে তাদের খোঁজখবর নেওয়া। এতে তারা প্রফুল্লবোধ করেন, সন্তানের সঙ্গে কথা বলে তারা মনে প্রশান্তি অনুভব করেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন যে, একবার একজন লোক মহানবির (সা.) কাছে জিজ্ঞাসা করেন, ‘হে আল্লাহর রসুল! মানবজাতির মধ্যে কোন ব্যক্তি আমার নিকট সদয় ব্যবহার ও উত্তম সাহচর্যের সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত?’ উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, ‘তোমার মা’। লোকটি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো, ‘এবং তারপর?’ তিনি (সা.) উত্তর দিলেন, ‘তোমার মা’। লোকটি আবার জিজ্ঞাসা করলো, ‘এবং তারপর’? তিনি (সা.) উত্তর দিলেন তোমার পিতা’। (বুখারি, মুসলিম)  অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, ‘লোকটি জিজ্ঞাসা করলো, হে আল্লাহর রসুল! কোন ব্যক্তি আমার সাহচর্যের বেশি উপযুক্ত? তিনি (সা.) বললেন, ‘তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার মা, তারপর তোমার পিতা, তারপর তোমার নিকটাত্মীয়গণ।’ (বুখারি, মুসলিম ও মেশকাত) মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) সমাজে যেভাবে একজন নারীকে মা হিসাবে, স্ত্রী হিসাবে মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন তেমনি তিনি তাদেরকে দিয়েছেন সম-অধিকার। ইসলাম মহান রাব্বুল আলামিনের মনোনীত একমাত্র নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। এতে নারী-পুরুষ সকলের অধিকারসমূহ সুষ্ঠু ও নির্ভুলভাবে বিন্যস্ত রয়েছে। কুরআন ইসলামি সমাজব্যবস্থা ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল আধার বা উৎস। ইসলামি আইনশাস্ত্রের চূড়ান্ত উৎস হিসেবে কুরআন মুসলিম নর-নারীর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্ধারণ করে দিয়েছে তার মর্যাদা ও অধিকারকে।  অন্য কথায়, সন্তানের বেহেশত লাভ মায়ের খেদমতের ওপর নির্ভরশীল। মায়ের খেদমত না করলে কিংবা মা’র প্রতি কোনোরূপ খারাপ আচরণ করলে, মাকে কষ্ট ও দু:খ দিলে সন্তান যত ইবাদত বন্দেগি আর নেক কাজই করুক না কেন, তার পক্ষে বেহেশত লাভ করা সম্ভবপর হবে না।  এর অর্থ এই নয় যে, ইসলাম পূর্ব ঐতিহ্য এবং সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন মুসলিম দেশের স্বদেশীয় আচার প্রথার কোনো প্রভাব কোনো মুসলিম বিশ্বের নারীদের ওপর ছিল না। এমনকি তা বিভিন্ন মুসলিম দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং আধুনিকীকরণে নারীদের ভূমিকা ও অধিকারের ওপর রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের প্রভাবকে অস্বীকার করে না।  এ থেকে যে বিষয়টির ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা হলো বিভিন্ন মুসলিম দেশের ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কুরআনের আদেশ, নির্দেশ এবং ইসলামি আইন ও বিধি-বিধান এসব দেশে বহাল রয়েছে। এগুলো মুসলিম বিশ্বের নারীদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রভাব রেখে চলেছে।  মানুষকে মানুষের মর্যাদা দিতে ইসলাম যতটুকু করেছে অতটুকু অপর কোনো ধর্ম কোনোদিন করতে পারে নি। মানুষের সর্বাঙ্গীণ শান্তি বিধানে ইসলামের চোখে মানুষ আল্লাহর খলীফা বলে স্বীকৃত হয়েছে। মানুষ এ দুনিয়ায় আল্লাহর প্রতিনিধি, কাজেই ধর্মে- কর্মে, জ্ঞানে-বিজ্ঞানে সে আল্লাহরই অনুসারী। আল্লাহ এ মানুষ বলতে শুধু পুরুষ বুঝান নি। নর-নারী এ দু’য়ের সমন্বয়ে মানব গোষ্ঠী। নারী কাজে ও চিন্তায় পুরুষের সঙ্গিনী। পুরুষের আনন্দক্ষণে খুশির বার্তাটুকু জানানোর জন্য আর তার দুঃখের মুহূর্তে তার বেদনায় সহানুভূতি জানানোর জন্য-ই নারী।  ইসলাম নারীর এ স্বকীয়তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। নর-নারী উভয়ই সমাজ, সভ্যতা ও ইতিহাসের নির্মাতা।  ইসলামে নারীকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়া হয়েছে। নারীকে দেয়া হয়েছে অত্যন্ত সম্মানের স্থান। তাকে সব প্রয়োজনীয় অধিকারও দেয়া হয়েছে। অবশ্য অধিকারের ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষ অপেক্ষা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধিক অধিকার দেয়া হয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পুরুষকে নারী অপেক্ষা বেশি অধিকার দেয়া হয়েছে। সামগ্রিক তুলনায় পুরুষ ও নারীর অধিকার প্রায় সমান বলা যায়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মানব জাতি! আমি নর ও নারী থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছি। আর আমি বিভিন্ন গোষ্ঠী ও গোত্রে তোমাদের বিভক্ত করেছি যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পার। তোমাদের মাঝে আল্লাহর দৃষ্টিতে নি:সন্দেহে সে-ই সর্বাধিক সম্মানিত যে তোমাদের মাঝে সর্বাধিক মুত্তাকী। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও পুরোপুরি অবহিত’ (সুরা আল হুজুরাত: ১৩)। এই আয়াত বিশ্ব-মানবের ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের মহাসনদ। জাতীয় শ্রেষ্ঠত্ব অথবা বংশগত গৌরবের মিথ্যা ধারণা থেকে উদ্ভূত আভিজাত্যের প্রতি এ আয়াত কুঠারাঘাত করেছে। এক জোড়া পুরুষ-মহিলা থেকে সৃষ্ট মানবমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে সকলেই আল্লাহতায়ালার সমক্ষে সম-মর্যাদার অধিকারী। চামড়ার রং, ধন-সম্পদের পরিমাণ, সামাজিক মর্যাদা, বংশ ইত্যাদির দ্বারা মানুষের মর্যাদার মূল্যায়ন হতে পারে না।  মর্যাদা ও সম্মানের সঠিক মাপকাঠি হলো ব্যক্তির উচ্চমানের নৈতিক গুণাবলি এবং স্রষ্টা ও সৃষ্টির প্রতি তার কর্তব্য ও দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা। বিশ্ব মানব একটি পরিবার বিশেষ। জাতি, উপজাতি, বর্ণ, বংশ ইত্যাদির বিভক্তি কেবল পরস্পরকে জানার জন্য, যাতে পরস্পরের চারিত্রিক ও মানসিক গুণাবলি দ্বারা একে অপরের উপকার সাধিত হতে পারে।  বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) একজন নারীকে মা হিসেবে যে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন, তার দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া ভার। এছাড়া ইসলামে মা হিসেবে নারীকে যে উঁচু-মর্যাদা ও সম্মান দেয়া হয়েছে, অপর কোনো সম্মানের সাথে তার তুলনাও হতে পারে না।  নবি করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, “বেহেশত মায়ের পায়ের পদতলে অবস্থিত।” অর্থাৎ মাকে যথাযোগ্য সম্মান দিলে, তার উপযুক্ত খিদমত করলে এবং তার হক আদায় করলে সন্তান বেহেশত লাভ করতে পারে।  অন্য কথায়, সন্তানের বেহেশত লাভ মায়ের খেদমতের ওপর নির্ভরশীল। মায়ের খেদমত না করলে কিংবা মা’র প্রতি কোনোরূপ খারাপ আচরণ করলে, মাকে কষ্ট ও দু:খ দিলে সন্তান যত ইবাদত বন্দেগি আর নেক কাজই করুক না কেন, তার পক্ষে বেহেশত লাভ করা সম্ভবপর হবে না।  হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রসুল করিম (সা.) বলেছেন, ‘মাতাপিতার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং মাতাপিতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত।’ (তিরমিজি)  আরো উল্লেখ রয়েছে, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, “এক ব্যক্তি মহানবির (সা.) নিকট জিজ্ঞাসা করল, ‘আমি কি জিহাদ করব?’ তিনি বললেন, ‘তোমার পিতামাতা আছে কি?’ লোকটি জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, আছে।’ হুজুর (সা.) বললেন, ‘তবে তাদের দু’জনের মাঝে জিহাদ কর। অর্থাৎ তাদের দু’জনের খেদমত কর।” (বুখারি) পৃথিবীতে একজন মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি যার অবদান, দয়া ও সহানুভূতি তিনি হলেন মা। অনেক ত্যাগ ও দুঃখ-কষ্ট করে একজন মা বড়ো করে তোলেন তার সন্তানকে। নিজে না খেয়ে সন্তানকে খেতে দেন। নিজে শত কষ্ট সহ্য করলেও সন্তানের সামান্য কষ্ট মা সহ্য করতে পারেন না। মাকে অসহ্যকর কষ্ট দিয়ে, মায়ের কোলে তিলে তিলে বড়ো হয়ে সেই মাকে ভুলে যাওয়া, তাকে কষ্ট দেওয়ার খবর প্রতিনিয়ত পাওয়া যায়। এমন উন্মাদ সন্তানও রয়েছে যারা এই প্রিয় মা বাবাকে হত্যা পর্যন্ত করে। বড়োই কষ্ট হয়, যখন শুনতে পাই কোনো সন্তান পিতা-মাতার গায়ে হাত উঠিয়েছে বা ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। যারা এমন করে তারা আসলে সন্তান নামে কলঙ্ক। তারা ইহকালেই জাহান্নাম অর্জন করে নেয়। বাংলাদেশে প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার ২০১৩ সালে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন প্রণয়ন করে। এতে সন্তানদের ওপর মা-বাবার ভরণপোষণের আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবার ব্যবস্থার বিস্তার, কর্মসংস্থানের কারণে সন্তানদের দূরে বসবাস এবং সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের ফলে অনেক প্রবীণ মা-বাবা অবহেলা ও আর্থিক সংকটে পড়েন। এ বাস্তবতায় সরকার প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে এ আইন প্রণয়ন করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনটির মূল উদ্দেশ্য হলো সন্তানদের দ্বারা মা-বাবার আর্থিক, সামাজিক ও মানবিক যত্ন নিশ্চিত করা এবং তাদের পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে না রাখা। অনেকে আবার প্রিয় বাবা মাকে রেখে আসেন বৃদ্ধাশ্রমে। অসহায় পিতামাতারা নীরবে বোবাকান্না কাঁদেন বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালে। অনাহারে অর্ধাহারে ভোগেন। কথা বলার জন্যও কাউকে পান না। একসময় যাদের হাসি ছিল তাদের জীবনের সবচেয়ে বড়ো আনন্দ, আজ সেই সন্তানদের অনুপস্থিতিই হয়ে উঠেছে তাদের সবচেয়ে বড়ো বেদনা। আজ যখন বহু মা-বাবা অবহেলা, নিঃসঙ্গতা ও অনাদরের শিকার হচ্ছেন, তখন ইসলাম আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয়-সন্তানের সবচেয়ে বড়ো পরিচয় বা অর্জন তার সম্পদ, ডিগ্রি বা পেশা নয়, বরং সন্তান প্রকৃত অর্থে আদর্শ মানুষ হয়েছে কিনা তা দেখতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে বিবেক দিন, আমরা যেন আমাদের পিতা-মাতার সাথে উত্তম আচরণ করি এবং তাদের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকি। লেখক: প্রাবন্ধিক, ইসলামী চিন্তাবিদ। masumon83@yahoo.com এইচআর/জেআইএম

Go to News Site