Collector
দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ অকাল মৃত্যু, ধ্বংস হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ | Collector
দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ অকাল মৃত্যু, ধ্বংস হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ
Jagonews24

দূষণে বছরে পৌনে ৩ লাখ অকাল মৃত্যু, ধ্বংস হচ্ছে শিশুদের ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণ—বিশেষ করে বায়ু, পানি ও সিসা দূষণ এক ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকটের সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতি বছর দেশে প্রায় দুই লাখ ৭২ হাজার মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আইসিডিডিআর,বি’র গবেষণায় দেখা গেছে, এই পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশের জিডিপির প্রায় ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বায়ু ও পানিতে ক্ষতিকর উপাদান এবং ভারী ধাতুর মিশ্রণ ফুসফুসের রোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই দূষণের নির্মম শিকার হচ্ছে শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা। বাতাসে বিষ: বাড়ছে গর্ভপাত ও মানসিক রোগ গবেষণামতে, বাতাসে সূক্ষ্ম বস্তুকণা বা এর উচ্চমাত্রার কারণে বাংলাদেশে ফুসফুসের রোগ ও হৃদরোগের ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আইসিডিডিআর,বি’র গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ঢাকার বাতাসে অতিরিক্ত দূষণ গর্ভস্থ সন্তানের কম ওজন এবং সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দীর্ঘদিন দূষিত বায়ুর (বিশেষ করে সালফার ডাই-অক্সাইড) সংস্পর্শে থাকলে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী, ছবি: সংগৃহীত ১০ কোটি মানুষ খাচ্ছে দূষিত পানি! ‘ডক্টরস প্ল্যাটফরম ফর পিপলস হেলথ’র সদস্য ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে ৪১ শতাংশেরও বেশি মানুষ উৎস থেকেই দূষিত পানি পান করে। প্রতি পাঁচ পরিবারের মধ্যে দুটি (৩৮ শতাংশ) ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসযুক্ত পানি পান করে। দেশে জীবাণু ও দূষণসহ পানি পান করা লোকের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। ভূগর্ভস্থ পানির আর্সেনিক ত্বকের ক্যানসার এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সিসা দূষণে ধ্বংস হচ্ছে শিশুর মস্তিষ্ক আইসিডিডিআর,বি’র এক সাম্প্রতিক গবেষণায় (২০২২-২০২৪) দেখা গেছে, ঢাকার ২-৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর প্রত্যেকের রক্তেই সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা সিডিসি নির্ধারিত ঝুঁকির সীমা অতিক্রম করেছে। যেসব শিশু সিসানির্ভর শিল্পের ১ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে, তাদের রক্তে সিসার মাত্রা ৪৩ শতাংশ বেশি। ড. তাহমিদ আহমেদ, ছবি: সংগৃহীত এ বিষয়ে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘সিসা নীরবে শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে। এটি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত করে, দেহে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করে এবং জাতির ভবিষ্যৎ পিছিয়ে দেয়। তাই আমাদের এখনই সিসা নির্গমণকারী উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’ ‘এটি আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই’  পরিবেশ দূষণের এই ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে একুশে পদকপ্রাপ্ত ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের চারপাশের দূষিত পরিবেশের সবচেয়ে বড় ও প্রথম ধাক্কাটা আসে মানুষের শরীরের ওপর। আমরা প্রতিনিয়ত যে বাতাস নিচ্ছি, তার বিষাক্ত ভারী ধাতু ফুসফুসে জমে একপর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার পর্যন্ত ঘটাচ্ছে। সাইনোসাইটিস, টনসিলাইটিস এখন ঘরে ঘরে। এই বিষ রক্তের বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জা দূষিত করে নানাবিধ রক্তের রোগ সৃষ্টি করছে।’ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, ফাইল ছবি পানিবাহিত রোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দূষিত পানির কারণে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড এবং জন্ডিসের মতো মারাত্মক লিভারের রোগ হচ্ছে।’ গর্ভবতী মা ও শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জাগো নিউজকে বলেন, ‘গর্ভবতী মায়েরা দূষণের শিকার হলে মিসক্যারেজ বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে। শিশু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বা শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নিতে পারে। শিশুরা কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে দ্রুত শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বায়ু ও পানি দূষণ রোধে এখনই রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক পঙ্গু ও অসুস্থ জাতিতে পরিণত হবে। পরিবেশ রক্ষা করা এখন আর কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের বেঁচে থাকার লড়াই।’ এসইউজে/এমএমএআর/এমএফএ

Go to News Site