Jagonews24
৪০টিরও বেশি ক্যাম্পাসে কার্যক্রম চালানো হয়েছে সংগ্রহ করা হয়েছে ৩০ হাজারেরও বেশি বোতল গাজীপুরে নার্সারিতে বসেছে স্থায়ী বুথ ১০টি বোতলের বিনিময়ে মিলবে একটি চারা বর্তমান সময়ে পরিবেশের প্রতি এক বাড়তি উপদ্রব হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে প্লাস্টিক দূষণ। বিশেষ করে একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক পণ্য বর্জ্য হিসেবে প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে মানবস্বাস্থ্যকে ফেলে দিচ্ছে নানা ঝুঁকির মুখে। এমন অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন মিশন গ্রিন বাংলাদেশ। ‘প্লাস্টিক দিন, গাছ নিন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটি চালু করেছে সম্পূর্ণ কার্যকর সার্কুলার এনভায়রনমেন্টাল মডেল- ভাংড়ি মামা। গাজীপুরের এই বুথ আমাদের স্বপ্নের কেবল শুরু। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও পাড়া-মহল্লায় ভাংড়ি মামা বুথ নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া। প্রতিটি বুথ হবে এক একটি পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু।- মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংগঠনটি বলছে, বাংলাদেশ বর্তমানে প্লাস্টিক দূষণ এবং ক্রমাগত সবুজায়ন কমে যাওয়ার মতো দ্বিমুখী পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। শহরের বর্জ্য নদী, ভাগাড় ও পুরো বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। অথচ একটু সচেতন হলেই এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। নার্সারিতে স্থায়ী বুথ উদ্বোধন এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবসের প্রাক্কালে গাজীপুরের অপূর্ব নার্সারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের প্রথম স্থায়ী বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই বুথের নিয়ম অত্যন্ত সহজ। যে কেউ নিজের ঘরে জমে থাকা কিংবা রাস্তাঘাট থেকে কুড়িয়ে নেওয়া ১০টি খালি প্লাস্টিকের বোতল বুথে জমা দিলেই, বিনিময়ে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পেয়ে যাবেন একটি জীবন্ত সবুজ চারাগাছ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সাময়িকভাবে গাছ বিতরণের কার্যক্রম চালানো হয়/ছবি: সংগৃহীত সংগৃহীত এই প্লাস্টিক বোতলগুলো ফেলে না দিয়ে সরাসরি রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে একদিকে যেমন প্লাস্টিক দূষণ কমবে, অন্যদিকে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বনায়ন বৃদ্ধি পাবে। মিশন গ্রিন বাংলাদেশ জানিয়েছে, গাজীপুরের অপূর্ব নার্সারিতে স্থায়ীভাবে বসানো এই বুথে নিয়মিত প্লাস্টিকের বোতল জমা হচ্ছে, আর তার বিনিময়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। প্রতিদিন প্রায় শত প্লাস্টিকের বোতল জমা হচ্ছে এখানে। আরও পড়ুনবিশ্বের ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন দেশ’ থেকে কী শিখতে পারে বাংলাদেশ?পাহাড়খেকোদের ছোবলে নীল ‘নাগিন পাহাড়’নীরব ঘাতক বায়ুদূষণ, বেশি ঝুঁকিতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাগরিকদের প্রতি তাদের বার্তা- পরিবেশ রক্ষা করা কোনো কঠিন কাজ নয়। আপনার দৈনন্দিন ছোট একটি পদক্ষেপই পারে চারপাশকে আবার সবুজ করে তুলতে। আপনার ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতল না ফেলে জমিয়ে রাখুন এবং বিনিময়ে গাছ নিন। সংগৃহীত প্লাস্টিকের বদলে আপনার হাত ধরে যে গাছগুলো রোপণ করা হবে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেবে একটি সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী। সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় বিপুল অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক দূষণ দূর হবে, একই সঙ্গে বৃক্ষ রোপণ বেশি হবে।- স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার ৪০টিরও বেশি ক্যাম্পাসে সফলতা সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, আগে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাময়িকভাবে এই কার্যক্রম চালানো হয়। এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি ক্যাম্পাসে অস্থায়ী বুথ বসিয়ে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের এই সফলতার পর এবার গাজীপুরে প্রথম স্থায়ী বুথ স্থাপন করা হলো, যেখানে সাধারণ মানুষ যে কোনো দিন এসে প্লাস্টিক বদলে গাছ সংগ্রহ করতে পারবেন। প্লাস্টিকের বোতল জমা দিয়ে চারা পেয়ে খুশি এক শিশু/ছবি: সংগৃহীত মিশন গ্রিন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ‘আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিরাচরিত ধারণাটা বদলে দিতে চাই। মানুষ যেন প্লাস্টিককে আবর্জনা না ভেবে মূল্যবান সম্পদ মনে করে। গাজীপুরের এই বুথ আমাদের স্বপ্নের কেবল শুরু। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও পাড়া-মহল্লায় ভাংড়ি মামা বুথ নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া। প্রতিটি বুথ হবে এক একটি পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু।’ সহযোগিতার আহ্বান এই সবুজ বিপ্লবকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে নার্সারির মালিক, প্রাতিষ্ঠানিক স্পন্সর ও তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ঢাকার বিভিন্ন এলাকাসহ দেশজুড়ে যারা পার্টনারশিপ বা বুথ স্পন্সর করতে আগ্রহী, তারা সরাসরি মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ লিংকের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন। আরও পড়ুনডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের পরিবেশ আন্দোলনলাইফস্টাইল বদলালে, পৃথিবী বদলে যেতে পারেসবুজ বাংলাদেশ গড়তে পরিবেশ সুরক্ষার বিকল্প নেই এ নিয়ে কথা হলে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্রের (ক্যাপসের) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, সাধারণ মানুষ প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় বিপুল অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক দূষণ দূর হবে, একই সঙ্গে বৃক্ষ রোপণ বেশি হবে। এছাড়া এই মডেলটি দেশের প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। আরএএস/একিউএফ
Go to News Site