Collector
ভারতে তেলাপোকা পার্টির প্রধানকে নিয়ে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা | Collector
ভারতে তেলাপোকা পার্টির প্রধানকে নিয়ে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা
Jagonews24

ভারতে তেলাপোকা পার্টির প্রধানকে নিয়ে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা

ভারতের ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নয়াদিল্লিতে ফিরছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই আন্দোলনকে এবার রাজপথে নিয়ে যেতে চান। যা নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার (৫ জুন) বলেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরছেন। শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য তিনি পুলিশের অনুমতি চাইবেন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল বিজেপি-র নামের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছে। গত মাসে যাত্রা শুরু করা এই ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখো মানুষের সমর্থন পেয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মটি গড়ে ওঠে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সরকারবিরোধী সমালোচনায় অংশ নেওয়া তরুণদের তিনি তেলাপোকা ও পরজীবী বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর গত ১৬ মে অভিজিৎ দিপকে অনলাইনে এই কাল্পনিক রাজনৈতিক দল চালু করেন। দিপকে এর আগে বিরোধী দল আম আদমি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ কৌশলবিদ হিসেবে কাজ করেছেন। তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক মঞ্চ— এই স্লোগান নিয়ে যাত্রা শুরু করা সিজেপি অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি দিপকে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রাধানরে পদত্যাগ দাবি করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রীর সমালোচনা হয়েছে। শুক্রবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দিপকে লিখেন, আমি ভারতের পথে... আমার ভাগ্য সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম। এদিকে লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, তিনিও এই বিক্ষোভে যোগ দেবেন। স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত সেপ্টেম্বরে গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি ছয় মাস আটক ছিলেন। ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় সিজেপির কয়েকটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এখনও ভারতে সচল রয়েছে এবং সেখানে অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশি। যা বিজেপির প্রায় ৯০ লাখ এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ অনুসারীর চেয়েও বেশি। বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় দিপকে সমর্থকদের বিমানবন্দরে ভিড় না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লি বিমানবন্দরে যোগ দেওয়ার জন্য মানুষের যে বিপুল সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের কল্পনারও বাইরে ছিল। তিনি আরও বলেন, এত মানুষের বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া সম্ভব নয়। এতে সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অসুবিধা হবে। দিপকে জানান, দিল্লিতে পৌঁছেই তিনি পুলিশের কাছে শনিবারের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাইবেন। তার ভাষায়, আমরা আইন মেনে চলা নাগরিক এবং দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাই কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সূত্র: এএফপি এমএসএম

Go to News Site