Jagonews24
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ছাগল ও কুকুর নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে বিএনপি নেতার লাথিতে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। আহত গৃহবধূ আশা আক্তার (২১) বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আশা আক্তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এসময় তার ভাইয়ের একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে বাঁচাতে গেলে বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের সময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার গর্ভপাত হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আশা আক্তার বলেন, ‘ভাইকে বাঁচাতে গেলে ফেরদৌস মিয়া আমার পেটে লাথি মারে। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে এসে জানতে পারি আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’ ভুক্তভোগীর স্বামী সালমান শাহ অভিযোগ করেন, পুলিশ ফেরদৌস মিয়াকে আটক করেছিল। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিচার করার আশ্বাস দিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। ছাড়িয়ে নেওয়ার বিষয়টি থানার সিসি ক্যামেরা চেক করলেই পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অভিযোগ প্রত্যাহার করিনি। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’ মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ বলেন, ‘পরীক্ষায় ওই নারীর গর্ভপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’ তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুয়াইর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা জামিল স্বপন বলেন, ‘শুনেছি ওই নারীর আগেই গর্ভপাত হয়েছিল। এখন মারামারির ঘটনায় ফেরদৌসকে জড়ানো হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত নই।’ এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান হারুন বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, ‘নারীকে হেনস্তার কারণে অভিযুক্তকে জরিমানা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছ।’ এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম
Go to News Site