Collector
ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর চটলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট | Collector
ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর চটলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট
Somoy TV

ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর চটলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইরান লেবাননকে ‘দরকষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।শুক্রবার (৫ জুন) বৈরুতে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কড়া সমালোচনা করে জোসেফ আউন বলেন, ‘এটা আপনাদের দেশ নয়, আমাদের দেশ। এটা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা আপনাদের কাজ নয়।’ লেবাননের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকেও এ বিষয়টি বুঝতে হবে। আউন বলেন, ‘হিজবুল্লাহকে বুঝতে হবে, আলোচনায় বসা ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এই সমস্যার সমাধান এবং যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা রক্ষা করার একমাত্র উপায় হলো আলোচনা ও কূটনীতি।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় লেবাননে সংঘাত এখন আঞ্চলিক সংকট সমাধানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বলেছে, যেকোনো সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় এক বৈঠকে শর্তসাপেক্ষে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে সম্মত হয় ইসরাইল ও লেবানন। চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। আরও পড়ুন: লেবাননে অবিলম্বে ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহ্বান আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শর্ত হলো, হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি হামলা বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একমত হয়েছে। এসব এলাকা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সেখানে কোনো অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না। তবে হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ বহুবার বলেছে যে, তারা ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে স্বীকৃতি দেয় না এবং তা মেনে চলবে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, খুব সম্ভবত, ইরান-মার্কিন আলোচনার অংশ হিসেবে লেবাননে একটি শর্তহীন যুদ্ধবিরতি না হওয়া পর্যন্ত হিজবুল্লাহ লড়াই চালিয়ে যাবে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরও (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে করা ইসরাইল ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরাইলকে অবিলম্বে লেবাননের জনগণের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে এবং লেবাননের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার ভেতরে দখল করা সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জারি করা ওই বিবৃতিতে লেবাননকে সম্মান ও মর্যাদার দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, দেশটি এখনও দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নির্মম হামলার মুখে রয়েছে। আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা’র নামে যেসব হস্তক্ষেপ করছে, তা আসলে আরও বেশি সহিংসতা ও অপরাধ বাড়াচ্ছে। এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই চুক্তিকে ‘বাস্তবিক ও কূটনৈতিক উভয় স্তরেই একটি বিরাট সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, যুদ্ধবিরতি হলেও হিজবুল্লাহ ইসরাইলি জনপদে হামলা করলে ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে আঘাত হানবে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। গত বুধবার (৩ জুন) লেবাননভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-মায়াদিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননের বৈরুতের ওপর হামলার মুখে তারা ‘চুপ থাকবে না’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈরুতের ওপর যেকোনো হামলা পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে এবং ফের ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে।

Go to News Site