Somoy TV
দেশের আইটি ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বিদেশ থেকে আসা আয়ের ওপর কেটে নেয়া সাড়ে ৭ শতাংশ উৎসে কর পুরোপুরি বন্ধ করা হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার পর বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড এরইমধ্যে ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর থেকে এই কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকটি জানিয়েছে, সম্প্রতি যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে কর বাবদ টাকা কেটে নেয়া হয়েছিল, তা দ্রুত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেয়া হবে।শুক্রবার (৫ জুন) ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে গ্রাহকদের এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যাংকটির জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আইটি ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছিল। তবে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ এবং তরুণদের ফ্রিল্যান্সিংয়ে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে এই কর আর কাটা হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি যাদের অ্যাকাউন্ট থেকে এরইমধ্যে কর কেটে নেয়া হয়েছে, সেই অর্থ কীভাবে দ্রুততম সময়ে ফেরত দেয়া যায়, সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।’বেশ কিছু দিন ধরে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের বৈদেশিক আয় বা রেমিট্যান্সের ওপর ৭.৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহলের নজরে এলে গত ১ জুন সচিবালয়ে দেশের জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘চিত্ত মিডিয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানার সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।বৈঠক শেষে জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে জানান, ফ্রিল্যান্সারদের ওপর এই কর আরোপের গুঞ্জন ও মাঠপর্যায়ের ভোগান্তির বিষয়টি তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন এবং ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর কোনো ধরনের কর আরোপ না করার পক্ষে চূড়ান্ত মত দেন।তথ্যপ্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত এবং ব্যাংকের তাৎক্ষণিক উদ্যোগের ফলে দেশের আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও গতিশীল হবে। করের বোঝা না থাকায় তরুণরা বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে আরও বেশি উৎসাহিত হবেন, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
Go to News Site