Collector
গরমে কোন কফি ভালো? ঠান্ডা নাকি গরম | Collector
গরমে কোন কফি ভালো? ঠান্ডা নাকি গরম
Jagonews24

গরমে কোন কফি ভালো? ঠান্ডা নাকি গরম

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে বেশিরভাগ মানুষই ঠান্ডা পানীয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কফিপ্রেমীরাও তখন এক কাপ ধোঁয়া ওঠা কফির পরিবর্তে বরফ মেশানো কোল্ড কফিকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন। তবে প্রশ্ন হলো, গরমের দিনে শরীরের জন্য সত্যিই কি ঠান্ডা কফি বেশি উপকারী, নাকি গরম কফিও সমানভাবে ভালো? এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত বেশ চমকপ্রদ। গরম ও ঠান্ডা কফির মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী? বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে গরম কিংবা ঠান্ডা, দুই ধরনের কফিই পান করা যেতে পারে। তবে শর্ত হলো, তা যেন পরিমিত মাত্রায় হয় এবং শরীরে পর্যাপ্ত পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। মূলত গরম ও ঠান্ডা কফির প্রধান উপাদান একই কফি ও দুধ। ফলে পুষ্টিগুণের দিক থেকে খুব বেশি পার্থক্য নেই। সীমিত পরিমাণে কফি পান করলে তা শরীরে কর্মশক্তি বাড়ায় এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে। ঠান্ডা কফি সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে অনেকের ক্ষেত্রে বরফযুক্ত বা ঠান্ডা পানীয় হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি সংবেদনশীল বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাদের পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গরম কফি তুলনামূলকভাবে সহজপাচ্য হতে পারে। গরম পানীয় হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে এবং অনেকের কাছে এটি বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হয়। ঘরে তৈরি কোল্ড কফিই ভালো বিকল্প যারা গরমে কোল্ড কফি পান করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য ঘরে তৈরি কফি হতে পারে সবচেয়ে ভালো সমাধান। বাজারে পাওয়া অনেক কোল্ড কফি, ফ্র্যাপে বা ক্যাফে-স্টাইলের পানীয়তে অতিরিক্ত চিনি, সিরাপ ও ক্রিম ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদান শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করার পাশাপাশি গরমের দিনে ভারী অনুভূতির কারণ হতে পারে। তাই কম চিনি ও সাধারণ উপকরণ দিয়ে বাড়িতে তৈরি কোল্ড কফি তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর। আরও পড়ুন: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে যেসব খাবার খালি পেটে লিচু খাওয়ার আগে সতর্ক হোন কফি কি শরীরকে পানিশূন্য করে? গরমকালে কফি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার ঝুঁকি। কফিতে থাকা ক্যাফেইনের হালকা মূত্রবর্ধক প্রভাব রয়েছে। ফলে অতিরিক্ত কফি পান করলে শরীর থেকে তরল বেরিয়ে যাওয়ার হার বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময় এটি আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, গ্রীষ্মকালে দিনে এক থেকে দুই কাপের বেশি কফি না পান করাই ভালো। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরকে আর্দ্র রাখতে লেবুর শরবত, ডাবের পানি কিংবা ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয়ও উপকারী হতে পারে। গরম কফিও শরীর ঠান্ডা করতে সাহায্য করতে পারে শুনতে অবাক লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে গরম কফি শরীরকে ঠান্ডা অনুভব করাতে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী পিটার ম্যাকনাটন এক সাক্ষাৎকারে জানান, গরম পানীয় শরীরে ঘাম উৎপাদন বাড়ায়। এই ঘাম বাষ্পে পরিণত হয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তবে এই প্রক্রিয়াটি শুষ্ক পরিবেশে বেশি কার্যকর। কারণ তখন ঘাম সহজে বাষ্পীভূত হয়। অন্যদিকে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম দ্রুত শুকায় না, ফলে শীতল হওয়ার প্রভাবও কমে যেতে পারে। তাহলে গরমে কোন কফি বেছে নেবেন? আসলে গ্রীষ্মকালে গরম কফি বাদ দিয়ে শুধু কোল্ড কফিতে অভ্যস্ত হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোন ধরনের কফি আপনার জন্য ভালো হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ও শারীরিক অবস্থার ওপর। যদি ঠান্ডা কফি পান করে সতেজ ও স্বস্তি বোধ করেন, তাহলে পরিমিত পরিমাণে সেটি পান করতে পারেন। আবার যদি গরম কফি আপনার হজমের জন্য বেশি উপকারী মনে হয়, তাহলে আবহাওয়ার কারণে অভ্যাস বদলানোরও প্রয়োজন নেই। গরমে কফি পান করতে চাইলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরকে পর্যাপ্ত আর্দ্র রাখা। গরম হোক বা ঠান্ডা, দুই ধরনের কফিই উপভোগ করা যায়। যদি তা সীমিত পরিমাণে পান করা হয় এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তাই নিজের শরীরের চাহিদা বুঝে পছন্দের কফি বেছে নিন এবং গ্রীষ্মেও কফির স্বাদ উপভোগ করুন। জেএস/

Go to News Site