Jagonews24
খোলা চিঠি পাঠিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে সরাসরি সাক্ষাতের আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে তিনি এই বৈঠকের প্রস্তাব দেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলেনস্কির ওই খোলা চিঠির জবাব শুক্রবার (৫ জুন) দিয়েছেন পুতিন। এছাড়া জেলেনস্কিকে মস্কো সফরের জন্য যে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পুতিন সে আমন্ত্রণ এখনও বহাল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। একই সঙ্গে জেলেনস্কির খোলা চিঠি পুতিনের কাছে পৌছে দেওয়ার বিষয়টিও জানিয়েছেন পেসকভ। বার্তা সংস্থা ইউক্রেনিফর্ম- এর তথ্য মতে, খোলা চিঠির জবাবে পুতিন জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করার কোনো প্রয়োজন দেখছেন না তিনি। সেন্ট পিটার্সবার্গে পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভারতীয় সাংবাদিক গীতা মোহন-এর এক প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, আমি বৈঠকের কোনো অর্থ দেখি না। প্রথমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা থামানো, আর রাশিয়া চায় একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে। বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে দিন, কিছু সমাধান তৈরি করতে দিন। তারপর আমরা সাক্ষাৎ করতে পারি। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ আগের দিন এবং শুক্রবার (৫ জুন) সকালে জেলেনস্কির পাঠানো খোলা চিঠিটি তাকে দেখিয়েছেন। পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই চিঠিতে অভদ্রতার উপাদান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বক্তব্যের শুরুতে পুতিন জেলেনস্কির নাম উল্লেখ না করে তাকে চিঠির লেখক এবং এই ভদ্রলোক বলে সম্বোধন করেন। পরে অবশ্য তিনি জেলেনস্কির নাম উচ্চারণ করেন। শুক্রবার (৫ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম-এ সাংবাদিকরা জানতে চান, ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পুতিনের বক্তব্যের পর জেলেনস্কিকে পাঠানো রুশ আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হয়েছে কি না। জবাবে পেসকভ বলেন, কোনোভাবেই নয়। আমন্ত্রণ এখনও বহাল রয়েছে। পেসকভ আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন কিছু বলেননি। তার মুখে কথা বসানোর চেষ্টা করবেন না। সম্প্রতি জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়ার পর মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে পেসকভের মন্তব্যকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সংলাপের দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২৯তম সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম-এর এবারের প্রতিপাদ্য ছিল বাস্তবিক সংলাপ: স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ। রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক এই ফোরামে অতিথি দেশ হিসেবে অংশ নিয়েছে সৌদি আরব। বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে নতুন উন্নয়ন মডেল গঠনের বিষয়টি এবারের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ফোরামের কর্মসূচিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ফোরাম, সৃজনশীল শিল্প ফোরাম, আন্তর্জাতিক যুব অর্থনৈতিক ফোরাম এবং ওষুধ নিরাপত্তা বিষয়ক ফোরাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি পিটার্সবার্গ সিজনস সাংস্কৃতিক উৎসব ও ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া আয়োজনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বছরের ফোরামের প্রধান অংশীদার ছিল ভিইবি ডট আরএফ, আর আয়োজক ছিল রি কংগ্রেস ফাউন্ডেশন। সূত্র: তাস/ইউক্রেনিফর্ম/ইউরো নিউজ কেএম
Go to News Site