Somoy TV
জিডিপিতে প্রায় ৩ শতাংশ অবদান রাখা এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নীতি-কৌশলের অভাবে সংকটে পড়েছে দেশের হালকা প্রকৌশল খাত। ঘুরে দাঁড়াতে কাঁচামাল আমদানি সহজ করা এবং আসন্ন বাজেটে বিশেষ নীতি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ ও বৈশ্বিক বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা।সরেজমিনে রাজধানীর ধোলাইখাল এলাকাঘুরে দেখা যায়, ইস্পাতের ভারি পাত কেটে দক্ষ হাতে তৈরি হচ্ছে হালকা শিল্পের নানা যন্ত্রাংশ। এ খাতে শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা দুই দশক থেকে শুরু করে ৩০-৩৫ বছর পর্যন্ত হলেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত মজুরি না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েছে তাদের মধ্যে। একজন শ্রমিক জানান, ৮, ১০ এমনকি ১২ ঘণ্টা ডিউটি করেও বেতন মেলে মাত্র ১৬ হাজার টাকা, যা দিয়ে সংসার চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়ছে। আরেকজন শ্রমিক বলেন, প্রায় ১৫ হাজার টাকার মতো বেতন পাই। যৌথ পরিবারে ৮-১০ জন সদস্যের সংসার চালাতে এই আয় যথেষ্ট নয়। দশকের পর দশক ধরে এমন বাস্তবতার মধ্যেই চলছে এই খাতের কার্যক্রম। তবে করোনার পর অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। একজন উদ্যোক্তা বলেন, ব্যবসা শুরু করলেও উচ্চ দামে কাঁচামাল কিনে সঠিক দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না। ক্রেতারাও প্রত্যাশিত দাম দিচ্ছেন না। হালকা প্রকৌশল শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের বড় একটি অংশই এই খাত থেকে সরবরাহ হয়। পাশাপাশি জিডিপিতে এর অবদান প্রায় ৩ শতাংশ। কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির জোগান নিশ্চিত করলেও উদ্যোক্তারা বলছেন, কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্ক এবং ব্যাংক ঋণ সুবিধার সীমাবদ্ধতায় চাপের মুখে পড়েছে খাতটি। এক উদ্যোক্তা বলেন, তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেছে, এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আরও পড়ুন: বাজেটে আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় কমানো ও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ চায় রিহ্যাব বিশ্ব অর্থনীতিতে এই খাতের বাজার ৭ থেকে ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের হলেও বাংলাদেশ এখনো খুবই সীমিত পরিসরে রফতানি করছে। তাই এই সম্ভাবনাময় বাজার ধরতে এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পকে শক্তিশালী করতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাসসহ বিশেষ নীতি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মেরামত সেবার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুরো খাতে প্রয়োগ হলে তা এই শিল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে হালকা প্রকৌশল খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক মিশনগুলোর মাধ্যমে এই খাতের সম্ভাবনাময় পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরতে হবে। রাজধানীর ধোলাইখালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা হালকা প্রকৌশল ক্লাস্টারে প্রায় ৮০ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ এবং তাদের পরিবার নির্ভরশীল। শ্রমিক ও উদ্যোক্তা সবাই এখন তাকিয়ে আছেন আসন্ন জাতীয় বাজেটের দিকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এই সম্ভাবনাময় খাতটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই কাঁচামাল আমদানিতে কর হ্রাস এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেয়ার দাবি জোরালোভাবে উঠেছে।
Go to News Site