Jagonews24
চলতি মৌসুমে নদ-নদীবেষ্টিত উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, ঘন ঘন বজ্রপাত এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফসলের ক্ষতি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং প্রাণহানির ঘটনাও বাড়ছে। বিশেষ করে বজ্রপাতে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, আগের তুলনায় এখন আবহাওয়ার আচরণ অনেক বেশি অস্বাভাবিক ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এতে প্রায়ই প্রাণহানিসহ নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কুড়িগ্রামে বজ্রপাতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কৃষক, দিনমজুর, নারী ও শিশু বেশি। ২০২৫ সালের ১৬ মে চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুই নারীর মৃত্যু হয়। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর উলিপুরে বজ্রপাতে কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন (৪২) ও তার স্ত্রী রুবি বেগম (৩৫) মারা যান। চলতি বছরের ৬ মে নাগেশ্বরীতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। ২১ মে চিলমারী উপজেলায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান রফিকুল ইসলাম। সর্বশেষ ২ জুন উলিপুরে খেলার সময় বজ্রপাতে রানা মিয়া (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়। আবহাওয়াবিদ সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী বা জলাশয়ের পাশে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কালো মেঘ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে। বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া, ধাতব বস্তু বহন এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কুড়িগ্রাম আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরন বদলে যাচ্ছে। ফলে বজ্রপাত, অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ঘটনা বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কয়েকটি প্রভাব এখন কুড়িগ্রামে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এর মধ্যে রয়েছে ঋতুচক্রের পরিবর্তন, অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি, ঘন ঘন বজ্রপাত, নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যা, তাপমাত্রার অস্বাভাবিক ওঠানামা এবং কৃষিতে রোগবালাই ও ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেবেকা নাজমা বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ুর এই পরিবর্তন একদিনে ঘটেনি। এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন ধরেই প্রকৃতি তার স্বাভাবিক নিয়মে চলতে পারছে না। এর পেছনে মূলত মানুষই দায়ী। তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রত্যেক মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নিয়মিত সভা, সেমিনার ও প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। রোকনুজ্জামান মানু/এএইচ/এমএস
Go to News Site