Jagonews24
ফুটবলকে বলা হয় ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ বা সুন্দর খেলা। কিন্তু মাঝে মধ্যে এই সুন্দর খেলাই হয়ে ওঠে চরম একঘেয়ে ও বিরক্তিকর। আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ৪৮টি দলের ১০৪টি ম্যাচের এই বিশাল ক্রীড়াযজ্ঞ চলবে সাড়ে ছয় সপ্তাহ ধরে। নিজের দেশের ম্যাচ দেখার উত্তেজনা আলাদা হলেও, নিরপেক্ষ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অনেক ম্যাচই হতে পারে চরম ম্যাড়মেড়ে। কারণ বিশ্বকাপে হারার ভয় এতটাই বেশি থাকে যে দলগুলো বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না; বরং রক্ষণাত্মক খেলে ড্র করাই তাদের মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। ফুটবলকে আরও গতিশীল ও বিনোদনমূলক করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা চলছে। আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ভেঙ্গার অফসাইড নিয়মে বদল আনা কিংবা থ্রো-ইন তুলে দিয়ে ‘কিক-ইন’ (পা দিয়ে বল মাঠে পাঠানো) চালুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে বিখ্যাত সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট মনে করে, ফুটবলকে সত্যিকারের রোমাঞ্চকর করতে হলে আরও আমূল এবং বৈপ্লবিক পরিবর্তন দরকার। ফুটবলকে একঘেয়েমি থেকে বাঁচাতে তারা কিছু অদ্ভুত ও মজার প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে: বারে তিনবার লাগলেই গোল! আক্রমণাত্মক ফুটবলকে পুরস্কৃত করতে একটি নিয়ম করা যেতে পারে— কোনো দল যদি ম্যাচের মধ্যে তিনবার গোলপোস্ট বা ক্রসবারে বল লাগায়, তবে সেটিকে একটি ‘গোল’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এতে দলগুলো গোলপোস্টে শট নিতে আরও বেশি উৎসাহিত হবে। আরও পড়ুন>>ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মানুষের আগ্রহ এবার এত কম কেন?ফুটবলে ‘সবচেয়ে দুর্বল’ দেশ: সান ম্যারিনো সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য বাদ পড়া তারকাদের নিয়ে ‘বিশেষ দল’ হালান্দ বা সালাহর মতো অনেক বিশ্বসেরা ফুটবলার কেবল নিজেদের দেশ কোয়ালিফাই করতে না পারার কারণে বিশ্বকাপে খেলতে পারেন না। প্রস্তাব করা হয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া দেশগুলোর সেরা র্যাংকড খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি ‘নিউট্রাল টিম’ বা নিরপেক্ষ দল গঠন করা হোক। এতে দর্শকরা তাদের প্রিয় তারকাদের খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। গোলকিপারদের জন্য কঠিন নিয়ম ম্যাচ যত গড়াবে, গোলকিপারদের হাত ব্যবহারের সুবিধা তত কমবে। যেমন— ম্যাচের একটি পর্যায়ে গোলকিপার এক হাত ব্যবহার করতে পারবেন না, পরে অন্য হাতও নিষিদ্ধ হবে। এমনকি ইনজুরি টাইমে গোলকিপার কেবল তার ‘মুখমণ্ডল’ বা ফেস দিয়ে বল আটকাতে পারবেন! চোটের ভান করলেই ‘শাস্তি’ মাঠে ফাউলের শিকার হয়ে ফুটবলারদের মিনিটে পর মিনিট শুয়ে ছটফট করার অভিনয় দেখাটা চরম বিরক্তিকর। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কোনো খেলোয়াড় যদি চোটের ভান বা ‘ডাইভিং’ করেন, তবে পরের ফাউলে প্রতিপক্ষ কোনো শাস্তি পাবে না। অর্থাৎ, এরপর তাকে সত্যি সত্যি ট্যাকল করার বৈধতা দেওয়া হবে! এতে মাঠে গড়াগড়ি করার অভ্যাস এক নিমেষেই বন্ধ হবে। দর্শক থেকে সরাসরি মাঠে ম্যাচের প্রথমার্ধে ১০ মিনিটের জন্য গ্যালারি থেকে লটারির মাধ্যমে যে কোনো একজন দর্শককে বেছে নেওয়া হবে এবং তাকে সরাসরি মাঠে নামিয়ে দেওয়া হবে। তিনি কোন দলকে সমর্থন করেন তা কেউ জানবে না, এমনকি তার সতীর্থরাও নয়। ওই ১০ মিনিট তিনি কীভাবে খেলবেন, তা সম্পূর্ণ তার ওপর নির্ভর করবে। চোখে পট্টি বেঁধে কর্নার কিক আজকাল কর্নার কিকের সময় ডি-বক্সের ভেতর ফুটবলারদের মধ্যে কুস্তি প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। এটি বন্ধ করতে কর্নার নেওয়ার সময় কিকারসহ মাঠের সব খেলোয়াড়ের চোখে পট্টি বেঁধে দেওয়া যেতে পারে! বল মাঠের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত খেলা চলতেই থাকবে। ভিএআর দেবে ‘বোরিং পেনাল্টি’ অনেক সময় দেখা যায় বড় বড় দলগুলো গোল দেওয়ার চেষ্টা না করে নিজেদের মধ্যে কেবল পাস খেলে সময় নষ্ট করে। নতুন নিয়মে, কোনো দল যদি মাঠে অতিরিক্ত ‘বোরিং’ বা একঘেয়ে ফুটবল খেলে, তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) তাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দিতে পারবে। মাঠে একসঙ্গে দুটি বল! ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনা দ্বিগুণ করতে মাঠে একই সময়ে দুটি বল দিয়ে খেলা চালানো যেতে পারে। এই নিয়ম চালু হলে রেফারি এবং ধারাভাষ্যকারদের অবস্থা কেমন হবে, তা ভাবাই এক বিশাল বিনোদন। সৃজনশীল গোল উদযাপনে কার্ড মওকুফ ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের রজার মিলার কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে সেই বিখ্যাত নাচ ফুটবলপ্রেমীরা আজও ভোলেননি। গোল করার পর ফুটবলাররা যদি অত্যন্ত চমৎকার ও সৃজনশীল উপায়ে তা উদযাপন করতে পারেন, তবে রেফারি খুশি হয়ে সেই খেলোয়াড়ের আগের পাওয়া একটি হলুদ কার্ড বাতিল বা মওকুফ করে দিতে পারবেন। আসন্ন বিশ্বকাপে এই নিয়মগুলো বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা হয়তো শূন্য। তবে ফুটবলকে একঘেয়েমি থেকে বাঁচাতে এমন সাহসী ও পাগলাটে চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনা করাও মন্দ কী! সূত্র: দ্য ইকোনমিস্টকেএএ/
Go to News Site