Jagonews24
দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম উদীয়মান শক্তি ইকুয়েডর টানা দ্বিতীয়বারের মতো এবং ইতিহাসে পঞ্চমবার ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার ঠিক পেছনে থেকে কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্ব শেষ করে সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ‘লা ত্রি’। তরুণ প্রতিভা, শক্তিশালী ডিফেন্স এবং নতুন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের অধীনে নতুন কৌশলে এবার বড় স্বপ্ন দেখছে ইকুয়েডর। ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। বেকাসেসের অধীনে নতুন রূপ কোপা আমেরিকায় হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর কোচ ফেলিক্স সানচেজকে বিদায় জানায় ইকুয়েডর ফুটবল ফেডারেশন। এরপর দায়িত্ব পান আর্জেন্টাইন কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। স্প্যানিশ ক্লাব এলচের সাবেক এই কোচ দায়িত্ব নিয়েই দলকে নতুন করে গড়ে তোলেন। তার প্রথম ম্যাচ ছিল ব্রাজিলের বিপক্ষে। কুরিতিবায় ১-০ গোলে হারলেও সেটিই ছিল বেকাসেসের অধীনে একমাত্র পরাজয়। এরপর তার কোচিংয়ে ইকুয়েডর:* ৫টি ম্যাচ জিতেছে* ৬টি ম্যাচ ড্র করেছে* মাত্র ১ গোল হজম করেছে বিশেষ করে:* কলম্বিয়াকে বাররানকিয়ায় ১-০ হারানো* ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনাকে ১-০ হারানো ছিল বাছাইপর্বের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি। বাছাইপর্বে দুর্দান্ত ইকুয়েডর ইকুয়েডর শুরুতেই তিন পয়েন্ট কাটা নিয়ে বাছাইপর্ব শুরু করেছিল। এরপরও তারা ২৯ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হয়। শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনার চেয়ে পিছিয়ে ছিল ৯ পয়েন্ট। বাছাইপর্বে ইকুয়েডরের পরিসংখ্যান* অবস্থান: রানার্সআপ* পয়েন্ট: ২৯* বেকাসেসের অধীনে গোল হজম: ১* পুরো বাছাইপর্বে এননার ভ্যালেন্সিয়ার গোল: ৬ যদিও আক্রমণভাগ খুব বেশি কার্যকর ছিল না। বেকাসেসের অধীনে ১২ ম্যাচে তারা মাত্র ৯ গোল করেছে। তরুণদের ওপর বড় আশা বর্তমান ইকুয়েডর দলে ইউরোপে খেলা একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন। উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়- * মোইসেস কাইসেদো* উইলিয়ান পাচো* এননার ভ্যালেন্সিয়া* পিয়েরো হিনকাপিয়ে* কেনড্রি পায়েজ বিশেষ করে চেলসির মিডফিল্ডার কাইসেদো এবং ডিফেন্ডার উইলিয়ান পাচো ইতোমধ্যে ইউরোপের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এননার ভ্যালেন্সিয়া এখনো দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইকুয়েডরের সূচি গ্রুপ পর্বে ইকুয়েডরের প্রতিপক্ষ: * আইভরি কোস্ট* কুরাসাও* জার্মানি ম্যাচসূচি * ১৪ জুন ২০২৬, আইভরি কোস্ট বনাম ইকুয়েডর, ভেন্যু: ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়াম* ২০ জুন ২০২৬, ইকুয়েডর বনাম কুরাসাও, ভেন্যু: কানসাস সিটি স্টেডিয়াম, * ২৫ জুন ২০২৬, ইকুয়েডর বনাম জার্মানি, ভেন্যু: নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের ইতিহাস বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান* কনফেডারেশন: কনমেবল* প্রথম বিশ্বকাপ: ২০০২* সর্বশেষ বিশ্বকাপ: কাতার ২০২২* মোট অংশগ্রহণ: ৫ বার ২০০২, ২০০৬, ২০১৪, ২০২২, ২০২৬ সামগ্রিক রেকর্ড* ম্যাচ: ১৩* জয়: ৫* ড্র: ২* হার: ৬* গোল করেছে: ১৪* গোল হজম: ১৪ টানা বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ * বর্তমান ধারাবাহিকতা: ২ (২০২২ ও ২০২৬) সেরা বিশ্বকাপ: জার্মানি ২০০৬ ইকুয়েডরের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা সাফল্য আসে ২০০৬ সালে। জার্মানি বিশ্বকাপে তারা প্রথমবারের মতো শেষ ষোলোতে ওঠে। গ্রুপ পর্বে পারফরম্যান্স। পোল্যান্ডকে হারায় ২-০। গোল করেন : কার্লোস তেনোরিও, আগাস্তিন দেলগাদো। কোস্টারিকাকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। গোল করেন- তেনোরিও, ডেলগাদো, ইভান কাভিয়েদেস। যদিও শেষ ম্যাচে জার্মানির কাছে হারে ৩-০ ব্যবধানে, তারপরও গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে নকআউটে ওঠে। শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই ইংল্যান্ডকে পুরো ম্যাচে কঠিন পরীক্ষা নেয় ইকুয়েডর। তবে ডেভিড বেকহামের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয়। কাতার ২০২২: ভালো শুরু, হতাশার শেষ রাশিয়া ২০১৮-তে জায়গা না পাওয়ার পর কাতার বিশ্বকাপে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসে ইকুয়েডর। উদ্বোধনী ম্যাচেই স্বাগতিক কাতারকে ২-০ ব্যবধানে হারায় তারা। দুই গোলই করেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। পরের ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ১-১ ড্র করে ইকুয়েডর। সেই ম্যাচেও গোল করেন ভ্যালেন্সিয়া। তবে শেষ ম্যাচে সেনেগালের কাছে ২-১ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়। প্রথম বিশ্বকাপের গল্প ২০০২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলে ইকুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা দ্বিতীয় হয়েছিল। তাদের ওপরে ছিল শুধু আর্জেন্টিনা। ২০০২ বিশ্বকাপে গ্রুপ * ইতালি* মেক্সিকো* ক্রোয়েশিয়া* ইকুয়েডর ম্যাচ ফল* ইতালির কাছে হার ২-০* মেক্সিকোর কাছে হার ২-১* ক্রোয়েশিয়াকে হার ১-০ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এডিসন মেন্দেজের গোল ছিল ইকুয়েডরের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা এনার ভ্যালেন্সিয়া এখন ইকুয়েডরের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা। ভ্যালেন্সিয়ার রেকর্ড* মোট বিশ্বকাপ গোল: ৬* ২০১৪ বিশ্বকাপ: ৩ গোল* ২০২২ বিশ্বকাপ: ৩ গোল এর আগে আগাস্তিন ডেলগাদো ছিলেন সর্বোচ্চ গোলদাতা, তার গোল ছিল ৩টি। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ফুটবলার এডিসন মেন্দেজ বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন। তার পরিসংখ্যান * বিশ্বকাপ: ৩টি* ম্যাচ: ৮* গোল: ১* অ্যাসিস্ট: ৩ তিনি খেলেছেন: ২০০২, ২০০৬, ২০১৪ বিশ্বকাপে স্মরণীয় মুহূর্ত ২০০৬ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এবং কোস্টারিকার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচ দুটি এখনো ইকুয়েডর ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা স্মৃতি। বিশেষ করে কোস্টারিকার বিপক্ষে সেই জয়ই প্রথমবারের মতো তাদের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল। বিশ্বকাপে ইকুয়েডরের সবচেয়ে বড় জয়: * ইকুয়েডর ৩-০ কোস্টারিকা* বিশ্বকাপ: ২০০৬* ভেন্যু: হামবুর্গ গোল করেছিলেন: কার্লোস তেনোরিও, আগুস্তিন দেলগাদো, ইভান কাভিয়েদেস এবার কি নতুন ইতিহাস? তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারের মিশেলে গড়া বর্তমান ইকুয়েডর দলকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক বেশি। শক্তিশালী ডিফেন্স, ইউরোপে খেলা প্রতিভাবান ফুটবলার এবং এননার ভ্যালেন্সিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তারা দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখছে। উত্তর আমেরিকার মাটিতে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারলে ইকুয়েডর ফুটবলে শুরু হতে পারে নতুন এক যুগ। আইএইচএস/
Go to News Site