Jagonews24
অধিকৃত পশ্চিম তীরে গাড়ি থামানোর নির্দেশ মেনে নেওয়ার পরও এক ফিলিস্তিনি পরিবারের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এতে স্যাম ফাহদ আবু হাইকাল নামে মাত্র সাত মাস বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা-মা। গত শুক্রবার (৫ জুন) পশ্চিম তীরের হেব্রনের তেল রূমেইদা এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। দুর্ভাগ্যবশত, যেদিন শিশুটির বয়স সাত মাস পূর্ণ হয়েছিল, ঠিক সে দিনই ইসরায়েলি বুলেটের আঘাতে তার জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। ‘ঠান্ডা মাথায় গুলি করা হয়েছে’ নিহত শিশুর বাবা ফাহদ আবু হাইকাল বেথলেহেম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন লেকচারার। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন। ফাহদ বলেন, তখনো দিনের আলো ছিল। গাড়িতে যে একটি পরিবার রয়েছে, তা সেনারা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিল। আরও পড়ুন>>বিয়ের অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৫ট্রাম্পের কথা শুনছেন না নেতানিয়াহু, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চলছেইতুমি পাগল হয়ে গেছো, সবাই তোমাকে ঘৃণা করে: নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প ‘সেনারা আমাকে গাড়ি থামাতে সংকেত দেয়। আমি গাড়িটি সম্পূর্ণ থামিয়ে স্টিয়ারিং হুইলের ওপর দুই হাত তুলে রাখি। কিন্তু ঠিক পরপরই তারা গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি শুরু করে। একটি বুলেট আমার হাত ভেদ করে পেছনের সিটে আমার স্ত্রীর কোলে থাকা শিশু স্যামের গায়ে লাগে।’ শনিবার শিশু স্যামের দাফন শেষে ফাহদ আবু হাইকাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গাড়িটি পুরোপুরি স্থির ছিল, মোটেও নড়ছিল না। মাত্র সাত মাসের একটি শিশুকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হলো। ও তো কোনো অপরাধ করেনি।’ তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী সেনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ফাহদ জানান, হামলায় তার স্ত্রীও গুরুতর আহত হয়েছেন। তার হৃৎপিণ্ডের কাছাকাছি স্প্লিন্টার (বোমা বা বুলেটের টুকরো) আটকে থাকায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। দায় এড়ানোর চেষ্টা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রতিবারের মতো এবারও ঘটনার দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল দেখে এক সেনা গুলি চালায়। তবে প্রাথমিক তদন্তে আহত ব্যক্তিরা ‘নিরীহ বেসামরিক নাগরিক’ বলে প্রমাণিত হয়েছে। আইডিএফ এই ঘটনার জন্য ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন ফাহদ আবু হাইকাল। তিনি বলেন, ‘ওই সেনা আমার থেকে মাত্র ১০ মিটার দূরে ছিল। গাড়ির গ্লাস কালো ছিল না, দিনের আলোয় সব স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। তারা স্রেফ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুলি চালিয়েছে।’ বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় জেরুজালেমে নিযুক্ত ব্রিটিশ কনস্যুলেট এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করে এই ঘটনার ‘অবিলম্বে স্বচ্ছ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা’ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনাদের এমন আচরণ নতুন কিছু নয়। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘যেশ দিন’-এর তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দায়ের করা ২ হাজার ৪২৭টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র এক শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে সেনাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে ইসরায়েলি সেনারা সাধারণত পার পেয়ে যায়। মানবাধিকার সংস্থা বিটিসেলেম জানিয়েছে, এর আগে গত ১৫ মার্চ জর্ডান উপত্যকার তামোনে একইভাবে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করেছিল ইসরায়েলি সেনারা। নিহতদের মধ্যে দুই শিশুও ছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/
Go to News Site