Somoy TV
দলিত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন ভারতের জাতীয় রাজনীতির আলোচনায়। সামাজিক মাধ্যম আর ডিজিটাল প্রচারণার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অভিজিৎ দীপকে এখন আলোচিত তরুণ মুখ। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন নিজের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে গড়ে তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টি। যেখানে তিনি সামাজিক অসন্তোষকে রূপ দিয়েছেন প্রতিবাদের ভাষায়।মহারাষ্ট্রের এক দলিত পরিবারে জন্ম তার। যেখানে বৈষম্য আর সামাজিক বঞ্চনা নিত্যসঙ্গী। সেই অবস্থা থেকে ভারতে এখন এক নাটকীয় উত্থানের নাম অভিজিৎ দীপকে। দলিত পরিবারের এই সন্তানই এখন দেশটির কোটি তরুণের ক্ষোভ আর হতাশার ভাষা হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অকপটে বলেছেন নিজের শৈশবের কথা। তার আশেপাশে এমন কোনো রোল মডেল ছিল না, যাকে দেখে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়। আরও পড়ুন: ভারতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ, মন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৫টি বড় দাবি প্রথাগত ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনার পথ থেকে সরে এসে বেছে নেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতাকে। পুনেতে সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সময় রাজনৈতিক যোগাযোগ, জনমত গঠন এবং ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আধুনিক কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। ভারতে থাকাকালীন আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও কাজ করেন দীপকে। সেখান থেকেই পান মিম, ব্যঙ্গ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার দক্ষতা। দিল্লি নির্বাচনে দলটির অনলাইন প্রচারণার অংশ হিসেবে কাজ করেন তিনি। আরও পড়ুন: ‘তেলাপোকারা কারও ভয় পায় না’, দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি নেতার গর্জন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, বেকারত্ব এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে ক্ষোভকে কেন্দ্র করে তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ধারণা সামনে আনেন। ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক বার্তার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ অল্প সময়েই কোটি তরুণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিজিৎ দীপকের উত্থান ভারতের রাজনীতিতে নতুন এক প্রবণতার প্রতীক। যেখানে প্রথাগত রাজনৈতিক পরিবার ও অর্থবলের বাইরে গুরুত্ব পায় ডিজিটাল যোগাযোগ দক্ষতা এবং সামাজিক অসন্তোষকে প্রতিবাদের ভাষায় রূপ দেয়ার ক্ষমতা।
Go to News Site