Collector
Giriş Yap
একটি রেডিওর সংবাদ যেভাবে বদলে দিয়েছিল পেলের পৃথিবী! | Collector
একটি রেডিওর সংবাদ যেভাবে বদলে দিয়েছিল পেলের পৃথিবী!

একটি রেডিওর সংবাদ যেভাবে বদলে দিয়েছিল পেলের পৃথিবী!

দারিদ্রের মাঝে বেড়ে উঠেছিলেন তিনি। একটি ফুটবল কেনার সামর্থ্য ছিল না। যে কারণে মোজার ভেতর সংবাদপত্র, দড়ি বা আঙ্গুর ঢুকিয়ে বল বানিয়ে খেলতেন রাস্তার ওপর। বাবার সঙ্গে চায়ের দোকানে কাজ করতেন। সেই বাবাই খেলা শেখাতেন। এডসন আরান্তেস দো নসিমন্তো বেড়ে উঠেছিলেন এভাবেই। স্থানীয় স্কুল থেকে যিনি ডাক নাম পেয়েছিলেন, পেলে। বিশ্বের কাছে এই নামেই কিংবদন্তীতে পরিণত হন ব্রাজিল ফুটবলের কালোমানিক। যাকে স্মরণ করা হয় সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে। দুঃখ-কষ্টে যার জীবন বেড়ে ওঠা, তার পক্ষে বড় স্বপ্ন দেখা দুঃস্বপ্ন। কিন্তু গোলাকার ফুটবলটা যেন পেলের পায়ে খেলা করার জন্যই তৈরি হয়েছিল। ফুটবল পায়ে রাস্তায়, পাড়ার ফুটবল মাঠে যেন জাদু দেখাতেন। মুগ্ধ হয়ে দেখতো সবাই। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে পেশাদার ফুটবলে নিজেকে জড়িয়ে পড়েন পেলে। ইনডোর ফুটবল তথা ফুটসালে খেলতে খেলতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন পেলে। ধীরে ধীরে নাম লেখান সান্তোসে। ১৫ বছর বছর বয়সে সান্তোসে যখন গেলেন পেলে, তখন স্থানীয় পত্রিকায় ছবিসহ সংবাদ ছাপা হলো- একদিন অনেক বড় তারকা হবে এই ছেলে। পেলের যখন ১৭ বছর বয়স, তখন বিশ্বকাপের তোড়জোড় চলছিল। সুইডেনে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল ফুটবল দল গঠন করবেন কোচ ভিসেন্তে ফিওলা। তিনি কিন্তু তখনই রত্ন চিনে নিয়েছিলেন। বিশ্বকাপগামী দলে তিনি রাখলেন ১৭ বছর বয়সী কিশোর ফুটবলার পেলেকে। খবরটা জানতেন না খোদ পেলেই। খবরটা শুনেছিলেন পেলের বাবা এডিসন। তিনি শুনেছিলেন একটি রেডিওতে। খবরে বলা হলো, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন ১৭ বছর বয়সী ফুটবলার পেলে। খবর শুনে বাসায় ছুটে এসেছিলেন পেলের বাবা। এসে খবরটা তাকে জানালেন। যদিও ব্রাজিল দলে ডাক পাওয়ার খবর শুনে নিজেই বিশ্বাস করতে পারেননি তিনি। ২০১৮ সালে প্রকাশিত এক তথ্যচিত্রে পেলে স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সন্ধ্যায় বাবা বাড়ি ফিরে বললেন, রেডিওতে শুনলাম, তোমাকে ব্রাজিল দলে নেওয়া হয়েছে। আমি ভেবেছিলাম কেউ হয়তো মজা করছে, নিশ্চয়ই কোনো ভুল হয়েছে।’ সান্তোসে খেলা এই কিশোর ফরোয়ার্ড জীবনে কখনো বিমানে চড়েননি, এমনকি দেশের বাইরেও যাননি। অথচ তাকে পাড়ি জমাতে হয়েছিল সুইডেনে, বিশ্বকাপ খেলতে। সুইডেনের আবহাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ব্রাজিল দল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য মোটা ট্র্যাকস্যুটের ব্যবস্থা করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, সেখানে প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকবে। কিন্তু গ্রীষ্মকালীন সুইডেনের তাপমাত্রা প্রায়ই ৭০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে ওঠে গিয়েছিল। মাঠে অবশ্য ব্রাজিল ছিল পুরোপুরি প্রস্তুত। নকআউট পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করেন পেলে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে করেন হ্যাটট্রিক, আর ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনকে ৫-২ গোলে হারানোর ম্যাচে করেন জোড়া গোল। সেই সঙ্গে তিনি গড়েন ইতিহাস- বিশ্বকাপ জেতা সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে, যে রেকর্ড এখনও অক্ষুণ্ন। শেষ পর্যন্ত একমাত্র ফুটবলার হিসেবে তিনবার বিশ্বকাপ জয় করেছেন পেলে। ব্রাজিলের বিশ্বজয়ী দলে সুযোগ পাওয়ার সেই সুখবর যে রেডিওর মাধ্যমে প্রথম পেয়েছিলেন পেলে, সেটি বর্তমানে সংরক্ষিত আছে সাও পাওলোর সান্তোসে অবস্থিত পেলে জাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। ছোট্ট সেই রেডিওর খবরেই যে বদলে গিয়েছিল পেলের পৃথিবী! আইএইচএস/

Go to News Site