Jagonews24
ময়মনসিংহের ভালুকায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ভবনের দেয়াল ও প্লাস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে মসজিদটি হস্তান্তরের আগে ত্রুটি যাচাইয়ের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রাক-যাচাই কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত মসজিদটি এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য একটি বড় সম্পদ। তাই উদ্বোধনের আগেই ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কিছু শ্রমিক দিয়ে ঘষামাজা ও মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচাই কমিটিকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে। জানা যায়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রায় ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি মডেল মসজিদ নির্মাণে অবস্থান ও নকশাভেদে গড়ে ১৫ থেকে ১৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ভালুকা মডেল মসজিদটি নির্মাণ করেছে নাঈমা এন্টারপ্রাইজ। ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনতলা এ ভবনে নারী ও পুরুষের পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ সুবিধা, লাইব্রেরি এবং গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যাচাই কমিটির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাতেম খান বলেন, কাজের মান খুবই নিম্নমানের। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রকল্পে জেনারেটর দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। জাপানি এসির পরিবর্তে চীনা কোম্পানির এসি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সেগুন কাঠের দরজার পরিবর্তে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, কমিটির সদস্যদের নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ফাটলসহ কিছু ত্রুটি পাওয়া গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এসব ত্রুটি মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধনের পর পুনরায় যাচাই করে সন্তোষজনক হলে প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মডেল মসজিদটি হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রধান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজারকে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যের একটি হস্তান্তর-পূর্ব যাচাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহমিদ ইফতেখার আলী সাংবাদিকদের বলেন, মসজিদটি হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ায় ঠিকাদারকে সেগুলো দ্রুত সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের কারণে কিছু সময় দেওয়া হয়েছে। ত্রুটি সংশোধনের পর যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মসজিদটি হস্তান্তর করা হবে। স্থানীয়দের দাবি, জনগণের করের টাকায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ স্থাপনার নির্মাণমান নিশ্চিত করতে দ্রুত কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে ফাটলের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হোক। হোসাইন সুলভ/কেএইচকে/জেআইএম
Go to News Site