Collector
লাইফস্টাইল বদলালে, পৃথিবী বদলে যেতে পারে | Collector
লাইফস্টাইল বদলালে, পৃথিবী বদলে যেতে পারে
Jagonews24

লাইফস্টাইল বদলালে, পৃথিবী বদলে যেতে পারে

পরিবেশ আমাদের জীবন, আমাদের শ্বাস, আমাদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, প্রযুক্তির ব্যবহার আর ভোগবাদী অভ্যাসের কারণে আমরা ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। পরিবেশ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই পৃথিবী শুধু আমাদের নয়, আগামী প্রজন্মেরও। তাই আজই সময় নিজের লাইফস্টাইল বদলানোর। আমরা অনেকেই মনে করি, পরিবেশ দূষণ বা জলবায়ু পরিবর্তন এত বড় বিষয় যে একজন মানুষের একা কিছু করার নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিটি বড় পরিবর্তনের শুরু হয় একজন মানুষ থেকেই। একজন ব্যক্তি যদি নিজের জীবনযাত্রায় ছোট ছোট পরিবর্তন আনে, তার প্রভাব ধীরে ধীরে পরিবার, সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত পুরো পরিবেশের ওপর পড়ে। পরিবেশ দূষণে সচেতন হওয়া আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো পরিবেশ দূষণ। বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে পরিবেশে নোংরা করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাসই পরিবেশের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর। একটি ছোট পরিবর্তন যেমন কাপড় বা পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যবহারকরা, পরিবেশের ওপর বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু কেনাকাটা নয়, পানির বোতল বা খাবার সংরক্ষণেও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করা উচিত। পরিবহন ব্যবহারে সচেতনতা আমরা প্রতিদিন ছোট দূরত্বেও গাড়ি বা মোটরসাইকেল ব্যবহার করি। এতে জ্বালানি পোড়ে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বাতাসে মিশে যায়। এই গ্যাসই বায়ুদূষণ এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের অন্যতম প্রধান কারণ। যদি একজন মানুষ প্রতিদিনের ছোট দূরত্বে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার শুরু করে, তাহলে শুধু তার নিজের শরীরই ভালো থাকে না, বরং প্রতিদিন অল্প হলেও কার্বন নিঃসরণ কমে যায়। কেউ যদি সপ্তাহে ৫ দিন ২-৩ কিলোমিটার গাড়ির বদলে হাঁটে বা সাইকেল চালায়, তাহলে বছরে অনেক কেজি কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। এই পরিবর্তন একজনের কাছে ছোট মনে হলেও, হাজার হাজার মানুষ করলে তা বিশাল প্রভাব ফেলে। পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় না করা আমরা অনেক সময় অজান্তেই পানি ও বিদ্যুৎ অপচয় করি। দাঁত ব্রাশ করার সময় ট্যাপ খোলা রাখা, অপ্রয়োজনে ফ্যান-লাইট চালিয়ে রাখার মতো ছোট অভ্যাস পরিবেশের ওপর বড় চাপ তৈরি করে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানে শুধু বিল কমানো নয়, বরং কার্বন নিঃসরণ কমানোও। তাই প্রয়োজন শেষে লাইট বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনীয় চার্জার খুলে রাখতে হবে। প্রযুক্তি ও আধুনিক জীবনে ভারসাম্য রাখা আজকের বিশ্বে প্রযুক্তি ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায় না। তবে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ ও ইলেকট্রনিক বর্জ্য বাড়ছে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পুরোনো ডিভাইস রিসাইক্লিং করে ব্যবহা করতে হবে। গাছ লাগানোর অভ্যাস তৈরি করা গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, বাতাস পরিষ্কার রাখে এবং পরিবেশকে ঠান্ডা রাখে। কিন্তু শহুরে জীবনে গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আপনি চাইলে নিজের বারান্দায়, ছাদে বা জানালার পাশে ছোট গাছ রাখতে পারেন। নিয়মিত একটি গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সবুজ পরিবেশ মানে শুধু সুন্দর দৃশ্য নয়, সুস্থ জীবনও। খাবার অপচয় কমানো অনেকেই প্রয়োজনের বেশি খাবার নিয়ে তা ফেলে দেন। কিন্তু খাবার অপচয় মানে শুধু অর্থের অপচয় নয়, বরং পানি, বিদ্যুৎ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয়ও। পরিকল্পনা করে খাবার গ্রহণ, বেঁচে যাওয়া খাবার সংরক্ষণ করে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যেভাবে একজন মানুষ অনুপ্রেরণা তৈরি করে একজন মানুষ যখন পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন শুরু করে, তখন তার আশেপাশের মানুষও প্রভাবিত হয়। পরিবার, বন্ধু, প্রতিবেশী সবাই ধীরে ধীরে একই পথে আসে। এভাবেই একটি ছোট পরিবর্তন সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। ইতিহাসে দেখা গেছে, বড় পরিবর্তনের শুরু সবসময় ছোট উদ্যোগ থেকেই হয়েছে। সূত্র: ইউএনইপি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনাইটেড নেশনস সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য আরও পড়ুন:একজন ধূমপায়ী, ঝুঁকিতে পুরো পরিবার তীব্র গরমে ঘরে থাকা গাছে পানি দেওয়ার সঠিক নিয়ম  এসএকেওয়াই

Go to News Site