Collector
গরমে নবজাতকের যত্ন নেবেন যেভাবে | Collector
গরমে নবজাতকের যত্ন নেবেন যেভাবে
Jagonews24

গরমে নবজাতকের যত্ন নেবেন যেভাবে

গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নবজাতকের যত্নে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কম থাকে। তাই অতিরিক্ত গরমে তারা সহজেই অস্বস্তি, পানিশূন্যতা বা বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। সঠিক যত্ন ও কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে গরমের সময়ও শিশুকে সুস্থ ও স্বস্তিতে রাখা সম্ভব। নবজাতককে পর্যাপ্ত দুধ পান করান গরমের সময় শিশুর শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায়। তাই মায়ের বুকের দুধ খাওয়া নবজাতকদের প্রয়োজন অনুযায়ী বারবার দুধ পান করাতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধই যথেষ্ট; আলাদা করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। ঘন ঘন দুধ খাওয়ালে শিশুর শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে। হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরান গরমে শিশুকে পাতলা, নরম ও সুতি কাপড়ের পোশাক পরানো উচিত। অতিরিক্ত কাপড় বা মোটা পোশাক শিশুর শরীরে তাপ জমিয়ে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। বাসার ভেতরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী এক স্তরের হালকা পোশাকই যথেষ্ট। ঘর ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখুন নবজাতক যে ঘরে থাকে সেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঘর অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সরাসরি শিশুর গায়ে ঠান্ডা বাতাস লাগানো উচিত নয়। ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করুন। রোদ থেকে দূরে রাখুন তীব্র রোদে নবজাতককে বাইরে নেওয়া এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সূর্যের তাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। প্রয়োজন হলে বাইরে যাওয়ার সময় শিশুকে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখুন এবং সরাসরি সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষিত রাখুন। ত্বকের বিশেষ যত্ন নিন গরমে ঘামাচি, র‍্যাশ বা ত্বকের জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। শিশুর ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। ঘাম হলে নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিন। ডায়াপার ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত পরিবর্তন করুন, যাতে ডায়াপার র‍্যাশ না হয়। আরও পড়ুন: খালি পেটে লিচু খাওয়ার আগে সতর্ক হোন স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সতর্ক সংকেত দেয় আপেলের বীজ খেলে কি সত্যিই বিষক্রিয়া হয়? গোসল করানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা গরমে শিশুকে প্রতিদিন কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করানো যেতে পারে। এতে শরীর সতেজ থাকে এবং ঘামের কারণে হওয়া অস্বস্তি কমে। তবে অতিরিক্ত সময় পানিতে রাখা উচিত নয়। পানিশূন্যতার লক্ষণ চিনে রাখুন স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব বা অবসন্নতা কান্নার সময় চোখে কম পানি আসা মাথার উপরের নরম অংশ (ফন্টানেল) কিছুটা বসে যাওয়া এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিরাপদ ঘুম নিশ্চিত করুন গরমে শিশুর ঘুমের পরিবেশ আরামদায়ক রাখা জরুরি। পাতলা বিছানা ব্যবহার করুন এবং অতিরিক্ত কম্বল বা ভারী কাপড় এড়িয়ে চলুন। শিশুকে চিৎ হয়ে শোয়ানো নিরাপদ এবং এতে ঘুমও ভালো হয়। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন? শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া বারবার বমি হওয়া দুধ খেতে না চাওয়া শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস অতিরিক্ত নিস্তেজ বা অচেতনভাব গরমের মৌসুমে নবজাতকের যত্নে সামান্য অসাবধানতাও নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়ানো, আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা, হালকা পোশাক পরানো এবং ত্বকের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে শিশুকে সুস্থ ও স্বস্তিতে রাখা সম্ভব। শিশুর আচরণ বা শারীরিক অবস্থায় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক জেএস/

Go to News Site