Jagonews24
মালয়েশিয়ার মেলাক্কা রাজ্যে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণে ‘চিত্তবিনোদন ও ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুরের উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এবং মালয়েশিয়ার সামাজিক সুরক্ষা সংস্থা পারকেসো-এর সহযোগিতায় মেলাক্কা পারকেসো রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোববার (৭ জুন) আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেলাক্কার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সেবা খাতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, নিয়োগকর্তা, পেশাজীবী এবং কমিউনিটির নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পারকেসোর ফরেন ওয়ার্কার্স ডিভিশনের প্রধান মিস্টার হারিরি হারুন এবং ডেপুটি ডিরেক্টর ড. শিভানান্দা রাজাহ সাতগুনাম। এছাড়া পারকেসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ, এনবিএল মানি ট্রান্সফার এবং সিবিএল মানি ট্রান্সফার হাউসের নির্বাহী কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পারকেসোর পক্ষ থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিচালিত সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক বিমা স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন পারকেসোর প্রতিনিধিরা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মালয়েশিয়া সরকারের দেশি-বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু করা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক বিমা স্কিমে বাংলাদেশি কর্মীদের নিবন্ধনের জন্য মালয়েশীয় নিয়োগকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রবাসী কর্মীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প ও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণেরও আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (শ্রম), পারকেসোর প্রতিনিধিরা, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতা, সিবিএল রেমিট্যান্স হাউসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মালয়েশীয় নিয়োগকর্তা এবং বাংলাদেশি কর্মীরা। বক্তারা প্রবাসী কর্মীদের সার্বিক কল্যাণ, শ্রম অধিকার সংরক্ষণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার আইন মেনে চলা, সামাজিক সুরক্ষা বিমা স্কিম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর বিষয়ে কর্মীদের উৎসাহিত করেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রবাসী শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে অতিথি ও বাংলাদেশি কর্মীদের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সচেতনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে। এমআরএম
Go to News Site