Jagonews24
বিশ্বজুড়ে কনসার্ট, দীর্ঘ সফর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা নাচ ও গানের পরিবেশনা-এসবের মাঝেও নিজের ফিটনেস ধরে রেখেছেন আন্তর্জাতিক পপ তারকা শাকিরা। ৪৯ বছর বয়সেও তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি, শারীরিক সক্ষমতা ও সুগঠিত গড়ন অনেকের কাছেই বিস্ময়ের বিষয়। কীভাবে তিনি নিজেকে এতটা ফিট রাখেন, সে বিষয়ে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন তার দীর্ঘদিনের ফিটনেস প্রশিক্ষক অ্যানা কাইজার। প্রশিক্ষকের মতে, শাকিরার সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে নিয়মিত শরীরচর্চা, নাচনির্ভর অনুশীলন এবং নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। নাচই তার প্রধান কার্ডিও ব্যায়াম শাকিরার ব্যায়াম রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নাচ। তবে এটি শুধুই বিনোদনের জন্য নয়, বরং তার শরীরচর্চারও বড় একটি মাধ্যম। অ্যানা কাইজারের ভাষ্য মতে, শাকিরা নিয়মিত ‘ড্যান্স-কার্ডিও’ অনুশীলন করেন। এই ধরনের ব্যায়ামে নাচের বিভিন্ন ধাপ ও গতিশীল মুভমেন্টের মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ানো, সহনশীলতা উন্নত করা এবং ক্যালরি ঝরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। মজার বিষয় হলো, অনুশীলনের সময় শেখা কিছু স্টেপ পরবর্তীতে তার মঞ্চ পরিবেশনাতেও ব্যবহার করা হয়। ভারী নয়, হালকা ওজনেই ভরসা অনেকের ধারণা, শরীরকে আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী রাখতে হলে ভারী ওজন তুলতেই হবে। তবে শাকিরার ক্ষেত্রে কৌশলটা ভিন্ন। তিনি সাধারণত কম ওজন ব্যবহার করেন এবং নির্দিষ্ট ব্যায়াম একাধিকবার পুনরাবৃত্তি করেন। এই পদ্ধতি শরীরকে টানটান ও সুগঠিত রাখতে সহায়তা করে, পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় চাপও কমায়। তার বেশির ভাগ অনুশীলনই ‘লো-ইমপ্যাক্ট’ ধরনের। অর্থাৎ এসব ব্যায়ামে হাঁটু, গোড়ালি কিংবা কোমরের জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। ফলে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে। আরও পড়ুন বেয়ার নেলস, সৌন্দর্যের নতুন বিলাসী ভাষা আরও পড়ুন রোদে স্বস্তি দেবে যেসব রঙের পোশাক পেটের পেশি শক্তিশালী রাখায় বাড়তি মনোযোগ শাকিরার ফিটনেস রুটিনে কোর বা পেটের পেশির ব্যায়ামেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রশিক্ষণের শেষ অংশে তিনি সাধারণত অ্যাবসের জন্য বিভিন্ন অনুশীলন করেন। এর মধ্যে সিট-আপের বিভিন্ন ধরন এবং পিলাটেসভিত্তিক ব্যায়াম উল্লেখযোগ্য। এসব অনুশীলন শরীরের ভারসাম্য, শক্তি ও নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের পর প্রোটিন গ্রহণের অভ্যাস শরীরচর্চার পর সঠিক পুষ্টি গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন শাকিরা। তার প্রশিক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, অনুশীলন শেষ হওয়ার ৪৫ মিনিটের মধ্যেই তিনি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পেশির পুনর্গঠন সহজ হয় এবং শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পায়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কী থাকে? শাকিরার খাবারের তালিকায় থাকে পুষ্টিকর ও প্রোটিনসমৃদ্ধ বিভিন্ন খাবার। সকালের নাশতায় তিনি সাধারণত অমলেট ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেয়ে থাকেন। দুপুরের খাবারে থাকে প্রোটিনসমৃদ্ধ সালাদ আর রাতের খাবারে থাকে ভাপানো সবজি এবং কোনো একটি প্রোটিনের উৎস। এ ছাড়া দিনের বিভিন্ন সময়ে স্যুপ, সবজি এবং প্রোটিন শেকও তার খাদ্যতালিকায় স্থান পায়। শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে তিনি সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর কিছু না কিছু খান। ধারাবাহিকতাই সাফল্যের আসল রহস্য শাকিরার জীবনযাপন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তার ফিটনেসের পেছনে কোনো বিশেষ শর্টকাট বা অলৌকিক পদ্ধতি নেই। বরং নিয়মিত ব্যায়াম, সক্রিয় জীবনধারা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের সমন্বয়ই তাঁকে বছরের পর বছর সুস্থ ও ফিট থাকতে সাহায্য করছে। ফিট থাকার ক্ষেত্রে শাকিরার এই অভ্যাসগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই দেয়-সুস্থ শরীর গড়তে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন, শৃঙ্খলা এবং ধারাবাহিকতা। তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস জেএস/
Go to News Site