Jagonews24
দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) খাতের বিকাশে ৫ হাজার কোটি টাকার আবর্তনশীল চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা পাবেন। আর অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করবে। সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট (এসএমইএসপিডি) এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়, সিএমএসএমই খাত শ্রমনিবিড় ও স্বল্প পুঁজি নির্ভর হওয়ায় জাতীয় আয় বৃদ্ধি, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের ঘাটতির কারণে এ খাতের উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে স্বল্প সুদে চলতি মূলধন সরবরাহের লক্ষ্যে এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। আরও পড়ুন রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে গঠিত এ তহবিলের আকার ৫ হাজার কোটি টাকা। এটি আবর্তনশীল ভিত্তিতে পরিচালিত হবে এবং সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নির্দেশনা মতে, তহবিলের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেবে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদ বা মুনাফায় ঋণ ও বিনিয়োগ বিতরণ করতে পারবে।এ সুবিধার আওতায় সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগ পাবে। যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত কার্যকর মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন, সেবা বা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না, তারা অগ্রাধিকার পাবে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, এ তহবিলের আওতায় ঋণের ক্ষেত্রে তিন অথবা ছয় মাস পর্যন্ত রেয়াতকাল দেওয়া যাবে। এই সময় শেষে কিস্তি পরিশোধ শুরু করতে হবে। আরও পড়ুন ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক, ৫ দিনে ৩৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালায় অনুমোদিত চার্জ বা ফি ছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো চার্জ আদায় করা যাবে না। তবে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত কোনো ঋণগ্রহীতা এ তহবিলের আওতায় সুবিধা পাবেন না। বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক এ তহবিল থেকে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে। তবে যেসব ব্যাংকের ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর/আইডিআর) ৭০ শতাংশের বেশি, তারা পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। এজন্য ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি বা পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পাদন করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, তহবিলের মূল উদ্দেশ্য হলো সচল সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধন সরবরাহ করে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা করা এবং এর মাধ্যমে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা। ইএআর/একিউএফ
Go to News Site