Collector
খুলনার রাজবাঁধ যেন ময়লার পাহাড় | Collector
খুলনার রাজবাঁধ যেন ময়লার পাহাড়
Jagonews24

খুলনার রাজবাঁধ যেন ময়লার পাহাড়

প্রতিদিন ৫০০-৫৫০ টন বর্জ্য যাচ্ছে রাজবাঁধে খোলা ট্রাকে বর্জ্য পরিবহন, পথেও ছড়াচ্ছে ময়লা শহরে ডাস্টবিন না থাকায় বিপাকে নগরবাসী খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য অপসারণ করে ডাম্পিং করা হচ্ছে শহরের অদূরে বটিয়াঘাটার রাজবাঁধ এলাকায়। তবে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় ডাম্পিং স্টেশন থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ করে তুলেছে বিপর্যস্ত। এতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন আশপাশের এলাকার মানুষ। রাজবাঁধে সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন সেকেন্ডারি স্টেশন থেকে বর্জ্য ট্রাকে করে এনে ডাম্পিং পয়েন্টে ফেলা হচ্ছে। ৯০ ভাগ ট্রাক ময়লাসহ উন্মুক্তভাবে আসছে এখানে। অনেক সময় ট্রাক থেকে বাতাসে ময়লা উড়ে রাস্তায়ও পড়ছে। ‘এখানে কৃষি কাজ করে অনেক মানুষের জীবিকা চলে। কিন্তু বর্জ্যের পানির কারণে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে আর ফসলও উৎপাদন হচ্ছে না। এখানকার খালে আগে মাছ হতো। পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মাছ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে।’ কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার সময় থেকে রাজবাঁধে শহরের বর্জ্য নিয়ে ডাম্পিং করা হচ্ছে। বর্তমানে নগরীর ১২টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৫৫০ টন বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এসব বর্জ্য ৮২টি ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের ট্রাকের মাধ্যমে নগরীর বাইরে রাজবাঁধ ডাম্পিং এলাকায় নিয়ে ফেলা হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই কার্যক্রম পরিচালনায় ৭৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী সরাসরি দায়িত্ব পালন করছেন। আরও পড়ুন- ‘নির্মল বাতাসের শহর’ রাজশাহী এখন শুধু অতীত কথাউন্নত যোগাযোগে বিপন্ন পরিবেশ নগরীর নিরালা, বয়রা বাজার মোড়, ময়লাপোতা, পিটিআই, নতুন বাজার, দৌলতপুর, কবির বটতলা, গোয়ালখালী, খালিশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো থেকে প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব স্টেশনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ময়লা এনে সাময়িকভাবে রাখা হয়। পরে ট্রাকের মাধ্যমে সেগুলো রাজবাঁধে স্থানান্তর করা হয়। তবে রাজবাঁধ থেকে বর্জ্য স্থানান্তরিত করা হচ্ছে না। সেখানেই স্তূপ আকারে ডাম্পিং করে রাখা হচ্ছে। ‘শহর থেকে আসা অধিকাংশ ময়লার গাড়ি উন্মুক্ত নিয়ে যায়। এতে যেমন গন্ধ বাতাসে ছড়ায়, তেমনি বাতাসে ময়লাও উড়ে রাস্তায় যায়। পলিথিন ও হাল্কা ময়লা হলে মানুষের গায়েও পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ময়লা পরিবহনে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’ নাগরিক সমাজ বলছে, পূর্বে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় ডাস্টবিন ছিল। বাসা বাড়ির ময়লা সরাসরি ডাস্টবিনে ফেলা যেতো। এখন ডাস্টবিন না থাকায় ময়লা পলিথিনে মুড়িয়ে ড্রেনে অথবা ময়লা সংগ্রহকারীদের সরাসরি দেওয়া হচ্ছে। এতে পলিথিনের কারণে আবর্জনা মাটির সঙ্গে মিশতে পারছে না। আর ড্রেনগুলো আটকে যাচ্ছে। এছাড়া ডাস্টবিন না থাকায় রাস্তায় থাকা কুকুর-বিড়ালও থাকছে অভুক্ত। বাজারের ব্যাগ বা মানুষের হাতে খাবার দেখলে ক্ষুধার্ত এসব প্রাণী হয়ে উঠছে হিংস্র। কিন্তু ডাস্টবিন থাকলে একদিকে এসব প্রাণী খাবার পাবে, অন্যদিকে ময়লা সহজে ফেলতে পারবে স্থানীয়রা। স্থানীয় বাসিন্দা সুশীল কুমার বলেন, রাজবাঁধের এ ময়লার ভাগাড়ের তীব্র গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠতে হয়। সবসময় তীব্র পচা গন্ধে এ এলাকার মানুষ খুব অশান্তির মধ্যে থাকে। পেছনের অংশে বড় জনবসতি থাকে। সবাইকে অস্থিরতার মধ্যে থাকতে হয়। ময়লার ভাগাড় দূরে সরিয়ে ফেলা উচিত। আর ময়লা এভাবে না ফেলে এর স্থায়ী সমাধান করা উচিত। রাজবাঁধ বর্জ্য ডাম্পিংয়ের ঠিক পেছনেই থাকেন শিল্পি রানী। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার এই জায়গা ছাড়া থাকার কোনো জায়গা নেই। এজন্য গন্ধ সহ্য করে এখানেই থাকতে হয়। অনেকবার তাদেরকে ময়লা না ফেলার জন্য অনুরোধ করেছি। উত্তরে এটা তাদের জায়গা বলে জানায় কেসিসি।’ আরও পড়ুন- শহরের প্রবেশমুখে ৩০ বছরের বিষাক্ত ভাগাড়বিষ-প্লাস্টিক-বর্জ্যে বিপন্ন সুন্দরবনঅস্তিত্ব সংকটে ‘নগর-বানর’ তিনি আরো বলেন, ‘এখানে কৃষি কাজ করে অনেক মানুষের জীবিকা চলে। কিন্তু বর্জ্যের পানির কারণে কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে আর ফসলও উৎপাদন হচ্ছে না। এখানকার খালে আগে মাছ হতো। পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে মাছ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে।’ ‘বাড়ি থেকে ময়লা নিলেও তার কার্যক্রম স্থায়ী কোনো সমাধান দিচ্ছে না। ময়লা পলিথিন মুড়িয়ে ফেলায় নষ্ট হচ্ছে না। আগে ছোট ডাস্টবিনে ময়লা ফেললে তার উচ্ছিষ্ট অন্য প্রাণীরাও খেতো। কিন্তু সে সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ময়লা এখন স্তূপে পরিনত হয়ে আমাদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাড়িয়েছে।’ খুলনা-কৈয়া সড়কের এক ব্যবসায়ী সোরাব আহমেদ বলেন, ‘শহর থেকে আসা অধিকাংশ ময়লার গাড়ি উন্মুক্ত নিয়ে যায়। এতে যেমন গন্ধ বাতাসে ছড়ায়, তেমনি বাতাসে ময়লাও উড়ে রাস্তায় যায়। পলিথিন ও হালকা ময়লা হলে মানুষের গায়েও পড়ে। সংশ্লিষ্টদের ময়লা পরিবহনে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’ খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘আগের মতো ডাস্টবিন না থাকায় আমরা ময়লা পলিথিনে করে ড্রেনে ফেলছি বা যত্রতত্র ফেলছি। বাড়ি থেকে ময়লা নিলেও তার কার্যক্রম স্থায়ী কোনো সমাধান দিচ্ছে না। ময়লা পলিথিন মুড়িয়ে ফেলায় নষ্ট হচ্ছে না। আগে ছোট ডাস্টবিনে ময়লা ফেললে তার উচ্ছিষ্ট অন্য প্রাণীরাও খেতো। কিন্তু সে সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ময়লা এখন স্তূপে পরিণত হয়ে আমাদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ময়লাতো সঙ্গে সঙ্গে সেকেন্ডারি স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা হয় না। একদিন সময় লাগে। সেজন্য বাসাবাড়ির অদূরে আগের মতো ছোট ডাস্টবিন করা উচিত। তবে রাজবাঁধে বর্জ্য নিয়ে ডাম্পিং করাও স্থায়ী সমাধান না। স্থায়ী সমাধানের জন্য কেসিসিকে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে।’ ময়লা ডাম্পিং স্টেশনের সুপারভাইজার হাফিজুর রহমান রাশেদ বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি ছোট-বড় ট্রাকে করে ময়লা এখানে আসে। শহরের ময়লা এখানেই ফেলা হয়। বন্ধের দিনেও প্রায় ৪০-৪৫ গাড়ি ময়লা আসে। বড় ক্রলার মেশিন দিয়ে ময়লা এখানেই ঠেলে রাখা হয়।’ খুলনা সিটি করপোরেশনের কনজারভেন্সি অফিসার আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ টন বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করি এবং সেগুলো রাজবাঁধ ডাম্পিং এলাকায় নিয়ে যাই। পৌরসভার সময় থেকে রাজবাঁধে বর্জ্য ফেলা হয়।’ তিনি বলেন, ‘ডাস্টবিন ব্যবস্থা পুরোনো মডেল। এখন ডোর টু ডোর ময়লা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটাই চলমান ও আরও গতিশীল করা হবে। তবে এখনো স্থায়ী সমাধান না হলেও স্থায়ী সমাধানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্জ্যবাহী প্রতিটি ট্রাককে ত্রিপল দিয়ে বর্জ্য ঢেকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া আছে।’ এফএ/এএসএম

Go to News Site