Jagonews24
উত্তাপ, উত্তেজনা কম প্রথম থেকেই। সেই শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, বিসিবির নির্বাচন হবে নিরুত্তাপ। এক সময় মনে হচ্ছিল নামমাত্র নির্বাচন হবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়েছেও তাই। ক্যাটাগরি ‘১’-এর বেশির ভাগ বিভাগে নির্বাচন হয়নি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে নির্বাচন হচ্ছে না। ওই ৫ বিভাগ থেকে এরই মধ্যে ৭ জন (ঢাকা ও চট্টগ্রামে দু’জন করে ৪ জন এবং সিলেট, রাজশাহী ও রংপুরে একজন করে) পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আছেন। জেলা ও বিভাগ ক্যাটাগরিতে খুলনা ও বরিশাল- মাত্র ২টি বিভাগে নির্বাচন হচ্ছে। এর মধ্যে খুলনা বিভাগে ২ পরিচালক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ জন। আর বরিশালে একটি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ জন। এর বাইরে ক্যাটাগরি ‘৩’, অর্থাৎ ক্রিকেটার, জাতীয় দলের অধিনায়ক, সার্ভিসেস ও ইউনিভার্সিটির ভোটারদেরও ভোট প্রয়োগ করতে হচ্ছে না। এই ক্যাটাগরি থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটির কাউন্সিলর ও সাবেক বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর। নির্বাচন হচ্ছে কেবল ক্যাটাগরি ‘২’, তথা ঢাকার ক্লাব কোটায়। ক্যাটাগরি ‘২’ থেকে ১২ পরিচালক পদের জন্য নির্বাচন করছেন ১৬ জন। ৭৬ জন ভোটার ওই ১৬ জনের মধ্য থেকে ১২ জনকে নির্বাচিত করবেন। এখন সেই ১২ জন কারা হন, সেটাই দেখার। আগামীকাল ৭ জুন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি অফিসে এবারের বোর্ড পরিচালক পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিসিবির আগামী দিনের সম্ভাব্য সভাপতি তামিম ইকবাল, তার ঘনিষ্ঠজন ফাহিম সিনহা, বিসিবির সাবেক অন্যতম শীর্ষ কর্তা রফিকুল ইসলাম বাবু, মাসুদউজ্জামান, ইব্রাহীম আহমেদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমেদের ছেলে), ইসরাফিল খসরু (অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে), বিএনপির অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আব্বাসের ছেলে ইয়াসির আব্বাস এবং ঢাকা মেরিনার ক্লাবের কাউন্সিলর শানিয়ান তানিম আছেন প্রার্থী তালিকায়। তাদের সঙ্গে আরও আছেন সাবেক দুই বোর্ড পরিচালক ফৈয়াজুর রহমান মিতু, আমজাদ হোসেন, ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ মেজর (অব.) ইমরোজ, বোরহানুল হোসেন পাপ্পু, প্রফেসর ড. সরকার মাহবুব হোসেন শামিম, সাকিফ আহমেদ সালাম ও আসিফ রাব্বানী। এই ১৬ জনের মধ্যে কোন ১২ জন নির্বাচিত হন, সেটাই দেখার। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল একটি অঘোষিত মোর্চা হবে। সেখানে ১২ জনের একটি অঘোষিত প্যানেল গঠন করা হবে এবং তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। পরে ঈদের ছুটি শুরুর পরপরই ২৭ মে ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে ১৬ প্রার্থী নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন। এবং সর্বশেষ খবর, এখন প্রকাশ্য নির্বাচনই হবে। তারপরও সেই নির্বাচনে ৭-৮ জনের পাল্লা বাকিদের চেয়ে অনেক ভারী। এর মধ্যে তামিম ইকবাল, ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, ইব্রাহীম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, ইয়াসির আব্বাস, শানিয়ান তানিম এবং মাসুদউজ্জামানের জয়ের সম্ভাবনা খুব বেশি। তাদের পক্ষে সমর্থনও বেশি। ৭৬ ক্লাবের অন্তত ৪৫ ক্লাবের পূর্ণ সমর্থন আছে ওই প্রার্থীদের। এর বাইরে ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক ও সাকিফ আহমেদ সালামও মোটামুটি সেফ জোনে আছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বাকি ২ পদে প্রফেসর ড. সরকার মাহবুব হোসেন শামিম, সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু, আমজাদ হোসেন ও আসিফ রাব্বানীর মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা শোনা যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্লাব প্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু ও আমজাদের পক্ষে। এখন দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। এআরবি/আইএইচএস
Go to News Site