Jagonews24
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম একলাফে ব্যারেলপ্রতি তিন ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে। লেবাননে ইসরায়েলের নতুন বিমান হামলা এবং সোমবার (৮ জুন) ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে বিকট বিস্ফোরণের খবরে জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়। এই সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। আরও পড়ুন ইরানে ভয়াবহ হামলা ইসরায়েলের, যুদ্ধ ফের তীব্র হওয়ার শঙ্কা বিপদ কেটে গেছে, জানাল সৌদি আরব বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলার ২৪ সেন্টে পৌঁছেছে। পাশপাশি, মার্কিন অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ ডলার ৮৭ সেন্ট বা ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ৪১ সেন্টে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের পর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিলের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা সাময়িক স্থগিত রাখার পর থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতি একপ্রকার স্থবির ছিল। তবে ইরান বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশের প্রধান ট্রানজিট রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে অধিকাংশ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নিজস্ব অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। এই সরবরাহ সংকটের মধ্যেই রোববার খনিজ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস গত চার মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো তেল উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব বাজারে খুব একটা পড়বে না। কারণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় ওপেক প্লাসের অধিকাংশ সদস্য দেশ তাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। অন্যদিকে, অবকাঠামোয় হামলার কারণে রাশিয়ার উৎপাদন ক্ষমতাও কমে গেছে। জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্টাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রধান হোর্হে লিওন এক নোটে জানান, বর্তমান বাজারে ওপেক প্লাসের এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সূত্র: রয়টার্সকেএএ/
Go to News Site