Collector
‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি স্পেন-ফ্রান্সের’ | Collector
‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি স্পেন-ফ্রান্সের’
Jagonews24

‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি স্পেন-ফ্রান্সের’

সাবেক তারকা ফুটবলার কাজী জসিম উদ্দিন আহমেদ জোসী আশির দশকে ব্রাজিলের একজন পাঁড় সমর্থক ছিলেন। তবে সেই জোসী এখন ব্রাজিলের সমর্থনতো করেনই না, এমনকি এবারের বিশ্বকাপে এই দলটিকে শিরোপা জয়ের সম্ভাব্যদের তালিকায়ও রাখছেন অনেক পেছনে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা বলতে গিয়ে এমনটিই বললেন সাবেক এই তারকা ফুটবলার। ‘আমি সেই আশির দশক থেকেই ছিলাম ব্রাজিলের সমর্থক। তবে ১৯৮২ সালে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক ফুটবল দেখে আমি এত কষ্ট পেয়েছিলাম যে, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি এই দলকে আর সমর্থনই করবো না। ওই বিশ্বকাপে ব্রাজিল ছিল ‘ড্রিম টিম’। দ্বিতীয় রাউন্ডে কঠিনগ্রুপ ছিল ‘সি’, যে গ্রুপে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সাথে ছিল ইতালি। সবার নজর ছিল ওই গ্রুপে। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিল হেরেছিল ইতালির কাছে। ৯০ মিনিটের খেলায় তারা যেভাবে হাল ছেড়ে দিয়েছিল এবং উদাসীন ছিল তাতে দর্শক-সমর্থকদের প্রত্যাশা ধুলোয় মিশে যায়।’ ‘ইতালির পাওলো রসির কাছেই হেরেছিল ব্রাজিল। হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইতালির ওই স্ট্রাইকার। ওই বিশ্বকাপকে অনেকে পাওলো রসির বিশ্বকাপও বলেন। ইতালি যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তার সিংহভাগ অবদান ছিল রসির। তিনি সেমিফাইনালে জোড়া গোল করেছিলেন পোল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে একটি গোল ছিল তার। আমি মনে করি, সেবার ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো ক্ষমতা ছিল। তাদের আয়েসী ফুটবল স্বপ্নভঙ্গ করে সমর্থকদের’-বলছিলেন জসিম উদ্দিন আহমেদ জোসী। ব্রাজিলের সমর্থন প্রত্যাহার করে কোন দলের ভক্ত হয়েছিলেন? জোসী বলেন,‘তারপর আমি সেভাবে কোনো দলকে সমর্থন করিনি। তবে মেসির আগমনের পর আর্জেন্টিনার সমর্থক হয়েছি। মাঝে স্পেনের খেলা আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে তাদের তিকিতাকা ফুটবল আমাকে বেশ আকৃষ্ট করেছে। বলতে পারেন আমি এখনো স্পেনের একজন অনুরাগী। স্পেন ছাড়াও ফ্রান্সের খেলা পছন্দ করি। ইদানিং পর্তুগালের খেলাও আমার খুব ভালো লাগছে।’ বোঝা গেলো আপনি ভালো ফুটবলের পূজারী। যারা ভালো ফুটবল খেলে তাদেরকেই আপনি পছন্দ করেন। এই বিশ্বকাপে আপনি তাহলে কোন দলগুলো ভালো খেলা উপহার দিতে পারে বলে মনে করেন? ‘আমার বিশ্লেষণে এই বিশ্বকাপে ৬টি দল ভালো করতে পারে- স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল এবং কিছুটা ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। চ্যাম্পিয়নশিপ ইউরোপেই যাবে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি স্পেন ও ফ্রান্সের।’ ‘প্রশ্ন উঠবে তাহলে জার্মানির কোনো সুযোগ নেই? আসলে জার্মানি দলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো ব্যতিক্রমী কোনো সুপারস্টার বা কারিশম্যাটিক খেলোয়াড় নাই, যারা যেকোনো মুহূর্তে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। যে কারণে আমি ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে জার্মানিকে ৫ নম্বরে রাখি। তবে এটা ঠিক, জার্মানিকে একেবারে ফেলে দিচ্ছি না। জাতি হিসেবে যখন তারা লড়াকু ফুটবল খেলে’-বলছিলেন জোসী। এবারের বিশ্বকাপে মাঠে তারকা ফুটবলারদের খেলা ছাড়াও জোসী চমৎকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সবাইকে মুগ্ধ করবেন বলে মনে করছেন, ‘২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে বলতে গেলে, খেলার বাইরে আমি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কিছু ক্লিপ দেখেছি, যেখানে শাকিরা গান গেয়েছেন এবং শিশুদের নিয়ে একটি অংশগ্রহণ ছিল। তার বক্তব্য শুনে আমি খুব মুগ্ধ ও আবেগ আপ্লুত হয়েছি। এই গানের জন্য ফিফা থেকে তিনি যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাবেন, তার পুরোটাই শাকিরা বিশ্বের শিশুদের কল্যাণে দান করে দিচ্ছেন। তিনি নিয়মিত শিশুদের কল্যাণে দান করেন এবং ভিডিওতে যে শিশুরা নাচছে তারা অপেশাদার নয়, বরং প্রকৃত নৃত্যশিল্পী যাদের তিনি হাইলাইট করেছেন। খেলার বাইরের এই বিষয়টি আমার খুব ভালো লেগেছে। ক্লিপ দেখে আমার মনে হয়, এবারের উদ্বোধনী সর্বশ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে।’ অনেকে মনে করেন দল বেড়ে ৪৮ টি হওয়ায় আকর্ষণ কমতে পারে। তবে জোসী তা মনে করেন না, ‘দলের সংখ্যা বেড়ে ৪৮টি হওয়া নিয়ে আমার কোনো নেতিবাচক ধারণা নেই। বিশ্বকাপকে অংশগ্রহণমূলক করে ফুটবলকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ৪৮টি দল ইতিবাচক প্রভাব ফেলেব। আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বলেন? বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে দেখলাম স্পেন বা জার্মানির মতো বড় দলগুলোও অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দলের কাছে হেরে যাচ্ছে। এর মানে হলো ফুটবলে আগে যে নির্দিষ্ট কিছু দেশের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল, তা এখন আর নেই। এখন ফুটবল অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়ে গেছে।’ তিনটি দেশে একসাথে বিশ্বকাপ হওয়াটা কেমন? আমেজের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি হবে কি? জানতে চাইলে জোসী বলেন, ‘আমি মনে করি না কোনো ঘাটতি হবে। কারণ, দর্শকরা সব জায়গায়ই যাবে। আমার মনে হয় না কোনো মাঠ খালি থাকবে। টিকিটই তো পাওয়া যাচ্ছে না। আসলে আমি ফুটবলের টেকনিক্যাল বিষয় এবং দলগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে বেশি চিন্তিত। টিকিট বা স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বা ধারণক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করছি না। বড় স্টেডিয়ামগুলোতে খেলা হলেও স্টেডিয়ামের বাইরেও দর্শকের জন্য বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ বিশ্বকাপ আসলেই আলোচনায় ওঠে মেসি, নেইমার ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই তিন খেলোয়াড়কে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? জোসীর জবাব, ‘এই তিনজন খেলোয়াড়ের মধ্যে নেইমারকে ততটা মূল্যায়ন করব না। আমি মেসি এবং রোনালদোকে বেশি মূল্যায়ন করবো। এই দুইজন এখনও নিজেদের ফিট রেখে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় পারফর্ম করছেন এবং দর্শকদের আনন্দ দিয়ে যেতে পারছেন। এ জন্য আমি তাদের স্যালুট জানাই। তারা সত্যিই অনন্য।’ অনেকে তো এমবাপেকে নিয়ে অনেক বেশি প্রত্যাশা করছেন। আপনি কি মনে করেন? ‘বর্তমান বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় যারা মেসি-রোনালদোদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন তাদের একজন এমবাপে। এরপর স্পেনের লামিন ইয়ামাল। এই ছেলেটির খেলা আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, সে অত্যন্ত কার্যকর। অনেকে ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কথা বলেন। তবে আমার কাছে ভিনিসিয়ুসের চেয়েও তাকে বেশি কার্যকর মনে হয়’-বলছিলেন জোসী। বিশ্বকাপে ইতালির না থাকাকে বেদনাদায়ক উল্লেখ করেছেন জোসী, ‘ইতালির না থাকাটা আমাকে ব্যথিত করেছে। এ নিয়ে টানা তিনবার। ইতালির মতো একটি দেশ যারা চারবার চ্যাম্পিয়ন। তাদের অনুপস্থিতি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে তাদের ফেডারেশন এবং সরকারের এর জবাব দেওয়া উচিত। এক সময় তাদের দাপট ছিল। আজ তারা এই পর্যায়ে কেন? কিছুদিন আগেও তো ইতালি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হলো। ইতালির না থাকাটা অবশ্যই একটি বিশ্বকাপে আমেজের ঘাটতি হবে।’ আরআই/আইএইচএস/

Go to News Site