Collector
সম্পর্ক গভীর হলেই দূরত্ব বাড়ে কেন? | Collector
সম্পর্ক গভীর হলেই দূরত্ব বাড়ে কেন?
Jagonews24

সম্পর্ক গভীর হলেই দূরত্ব বাড়ে কেন?

প্রেমের সম্পর্কে নানা রকম ঝামেলা দেখা যায়। সম্পর্কের শুরুতে যে মানুষটির মেসেজে ফোনের স্ক্রিন আলো হয়ে উঠত, যার সঙ্গে রাতের পর রাত কেটে যেত কথোপকথনে, হঠাৎই একদিন সে যেন বদলে যায়। কাছাকাছি আসার আগেই তৈরি হয় দূরত্ব। আধুনিক ডেটিং দুনিয়ায় এই অদ্ভুত মানসিক আচরণের নাম এখন আলোচনায়, পাফার-ফিশিং। নামটি নতুন হলেও এর সঙ্গে মাছ বা সমুদ্রের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, বরং এটি মানুষের সম্পর্কের জটিল মনস্তত্ত্বকে বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাফার-ফিশিং কী? পাফার ফিশ যেমন বিপদ অনুভব করলে নিজের শরীর ফুলিয়ে নেয় এবং নিজেকে রক্ষা করার জন্য গুটিয়ে যায়, সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কিছু মানুষ ঠিক একই আচরণ করেন। সম্পর্ক যখন ধীরে ধীরে গভীর বা সিরিয়াস হতে শুরু করে, তখন তারা আবেগগতভাবে দূরে সরে যেতে থাকেন। এই অবস্থায় তারা হঠাৎ যোগাযোগ কমিয়ে দেন, এড়িয়ে চলেন, কিংবা একেবারে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেন। আধুনিক ভাষায় এটিকে অনেক সময় ঘোস্টিংও বলা হয়। সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা যত বাড়ে, তাদের মধ্যে অস্বস্তি ততই বাড়তে থাকে, ফলে তারা নিজেরাই দূরত্ব তৈরি করেন। এই ধারণার উৎস ‘হোয়াই ডু আই কিপ ডুইং দিস?’ বইয়ের লেখিকা কেটি মর্টন এই ধারণাকে জনপ্রিয় করেন। তিনি জানান, তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি প্রথম এই শব্দের সঙ্গে পরিচিত হন। তখন তার সম্পর্কগুলোও স্থিতিশীল ছিল না। তার থেরাপিস্ট তাকে বুঝিয়েছিলেন, সে আসলে পাফার ফিশের মতো আচরণ করছে। যখনই কেউ তার খুব কাছে আসে এবং সম্পর্ক গভীর হয়, তখনই সে আবেগ প্রকাশের ভয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। এই আচরণের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে মানসিক দুর্বলতা প্রকাশ করার ভয় এবং অতীত অভিজ্ঞতা। যেভাবে বোঝা যায় শুরুতে এই ধরনের মানুষদের চেনা প্রায় অসম্ভব। কারণ সম্পর্কের প্রথম দিকে তারা খুবই যত্নশীল, আবেগপ্রবণ এবং মনোযোগী হন। তারা এমন আচরণ করেন যেন সম্পর্কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা শুরু হয় যখন সম্পর্ক ধীরে ধীরে ক্যাজুয়াল থেকে সিরিয়াস দিকে যায়। তখন তাদের মধ্যে হট অ্যান্ড কোল্ড আচরণ দেখা যায়। অর্থাৎ একদিকে তারা খুব কাছাকাছি আসেন, আবার পরক্ষণেই দূরে সরে যান।ছোটখাটো বিষয়েও তারা অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন, সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ করেন এবং অনেক সময় অকারণেই এড়িয়ে চলেন। সিরিয়াস কোনো আলোচনা এলে তারা চুপ হয়ে যান বা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কিছুদিন পর আবার এমনভাবে ফিরে আসেন, যেন কিছুই ঘটেনি। সমস্যার জন্য যে দায়ী মনোবিশ্লেষকদের মতে, এই আচরণের পেছনে অনেক সময় শৈশবের অভিজ্ঞতা কাজ করে। যেসব মানুষ এমন পরিবেশে বড় হন যেখানে আবেগের গুরুত্ব ছিল না, বা ভালোবাসা ছিল শর্তসাপেক্ষ, তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা এক ধরনের ভয় তৈরি করে। তারা মনে করতে পারেন যে, আবেগ প্রকাশ করলেই তারা আঘাতপ্রাপ্ত হবেন বা নিয়ন্ত্রিত হবেন। তাই তারা অজান্তেই দূরত্ব তৈরি করেন। তবে এর মানে এই নয় যে কেউ একটু স্পেস চাইলে তিনি পাফার ফিশ। সুস্থ সম্পর্কে স্পেস থাকে, কিন্তু সেখানে বোঝাপড়া এবং যোগাযোগ বজায় থাকে। তারা কি খারাপ মানুষ? একেবারেই নয়। সম্পর্ক এড়িয়ে চলার প্রবণতা থাকলেই কেউ খারাপ মানুষ হয়ে যান না। অনেক সময় মানুষ নিজের আবেগ নিজেই বুঝতে পারেন না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তবে সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এই আচরণ বারবার সম্পর্ক ভেঙে দেয় এবং অপর পক্ষ মানসিকভাবে কষ্ট পায়। তখন সম্পর্কটি ধীরে ধীরে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে। সমাধানের যেসব পথ রয়েছে এই ধরনের মানসিক আচরণ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আত্মবিশ্লেষণ। কেন ভয় তৈরি হচ্ছে, কোথা থেকে এই অস্বস্তি আসছে-তা বুঝতে হবে। পালিয়ে না গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। প্রয়োজনে থেরাপি নেওয়া, নিজের অনুভূতিকে বুঝতে শেখা এবং খোলামেলা যোগাযোগের অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্ক মানে শুধু ভালো সময় নয়, বরং কঠিন অনুভূতির মধ্যেও একে অপরকে বোঝা। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার এড়িয়ে যাওয়া দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পাফার-ফিশিং আমাদের শেখায়,আধুনিক সম্পর্ক শুধু আবেগের খেলা নয়, বরং মানসিক নিরাপত্তা ও বোঝাপড়ার একটি জটিল সমীকরণ। দুর্বলতা প্রকাশ করা কোনো বিপদের সংকেত নয়। বরং সেটিই হতে পারে সত্যিকারের সম্পর্কের ভিত্তি। সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে, এনডিটিভি ও অন্যান্য আরও পড়ুনযে কারণে মানুষ সম্পর্কে জড়ায় নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে  এসএকেওয়াই

Go to News Site