Jagonews24
একসময় লোকগানের মঞ্চ মাতানো জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকু এবার ভক্তদের জন্য দিলেন মন খারাপ করা খবর। চারবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি আর সংগীতাঙ্গনে ফিরতে পারবেন না বলেই মনে করছেন। এমনকি পরিপূর্ণভাবে ফিরতে না পারলে গানে ফেরারও কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছেন এই শিল্পী। সম্প্রতি ‘পথের গল্প’ নামে একটি ট্রাভেল ডকুমেন্টারিতে অংশ নিয়ে নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থা, সংগীতজীবন এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন ক্লোজআপ ওয়ানখ্যাত এই শিল্পী। রিংকু জানান, ২০২০ সাল থেকে তিনি গুরুতর শারীরিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। একের পর এক চারবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরের এক পাশ অনেকটাই অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে গ্রামের বাড়িতেই নিভৃতে সময় কাটছে তার। গানে ফেরার প্রসঙ্গে রিংকু বলেন, ‘পুরোপুরি গানে ফেরার ইচ্ছা আমার নেই। ইচ্ছা করলেও সেই সম্ভাবনা নেই। কারণ, চারবার স্ট্রোক হয়েছে। এর মধ্যে এক-দুবারের কথা কেউ জানতও না। চারবার স্ট্রোক হওয়ার পর বুঝেছি, সব আশা শেষ। এটা মেনে নিতে হবে, কারণ এটাই বাস্তবতা।’ আক্ষেপের সুরে তিনি আরও বলেন, ‘আমি যেভাবে ফিরে আসতে চাই, সেভাবে আর হবে না। পরিপূর্ণভাবে ফিরতে না পারলে ফিরে আসার দরকার নেই। আমি মরে গেলেও গানগুলো তো থাকবে। আমার একটাই অনুরোধ, গানগুলো যেন নষ্ট না হয়।’ সংগীতজীবনের পাশাপাশি শহরের মানুষের সম্পর্ক নিয়েও নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন রিংকু। তার মতে, গ্রামের মানুষের ভালোবাসা অনেক বেশি আন্তরিক। তিনি বলেন, ‘শহরের মানুষের ভালোবাসা অনেক সময় কাজের জন্যই হয়। কিন্তু গ্রামের মানুষের ভালোবাসা অরিজিনাল। তারাই এখন আমার বন্ধু। একটা কথা আছে—কাজ করলে কাজী, কাজ ফুরালে পাজি। শহরের মানুষের ভালোবাসাটাও অনেকটা তেমন। কাজ থাকলে খোঁজ নেয়, কাজ শেষ হলে আর মনে রাখে না।’ রিংকু জানান, একসময় যাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, তাদের অনেকেই এখন আর যোগাযোগ রাখেন না। তবে এ নিয়ে কারও প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। তার ভাষায়, ‘সেই সময়ের কোনো বন্ধুই এখন নেই। কেউ খোঁজ রাখে না। তবে আমি কারও সহানুভূতি চাই না। যদি কারও জন্য কিছু করে থাকি, সেটা নিজের ইচ্ছাতেই করেছি।’ আরও পড়ুন:শাকিব-বুবলীর কন্যাসন্তানের খবরে মিষ্টি জান্নাতের রহস্যময় পোস্ট হুমায়ূন আহমেদের সংলাপে স্বামীকে নিয়ে দীপ্তি চৌধুরীর আবেগঘন বার্তা বর্তমানে গ্রামের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং সান্নিধ্যই তাকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগাচ্ছে বলে জানান রিংকু। জীবনের কঠিন এই সময়ে তাদের মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন প্রকৃত বন্ধুত্ব এবং নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা। এমএমএফ
Go to News Site