Collector
যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা নিয়ে নতুন উত্তেজনা | Collector
যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা নিয়ে নতুন উত্তেজনা
Jagonews24

যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা নিয়ে নতুন উত্তেজনা

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগে একের পর এক সমস্যায় জড়াতে হচ্ছে ইরান ফুটবল দলকে। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ- দলের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক সদস্যদের ভিসা না দিয়ে রাজনৈতিক বৈষম্য করা হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা এবার ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চেও ছড়িয়ে পড়তে যাচ্ছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভিসা না পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল হেদায়াত মোমবেনি এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট মেহদি মোহাম্মদ নাবি। মোট ১৪ জন ব্যাকরুম স্টাফ ও কর্মকর্তা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ভিসা পেয়েছেন কিনা, সেটিও নিশ্চিত নয়। বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে নতুন সংকট ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি এমনিতেই নানা জটিলতায় ভুগছিল। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আগেই তাদের প্রস্তুতি পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য হয়। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টুকসনে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিহুয়ানায়। শনিবার তুরস্কের আনতোলিয়া থেকে ইরান ফুটবল দল মেক্সিকোর উদ্দেশে রওনা দেয়। যেসব কর্মকর্তা এখনও ভিসা পাননি, তাদেরও মেক্সিকোতে যাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ভিসা পাওয়ার প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন। তেহরানের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করছে। ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই সিদ্ধান্ত ইরান জাতীয় দলকে বৈষম্যহীন পরিবেশে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেছে। আমরা বিষয়টি ফিফার কাছে উত্থাপন করব।’ যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা ব্যাখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, খেলোয়াড়দের ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সব খেলোয়াড়ই ভিসা পেয়েছেন। এছাড়া কোচিং স্টাফ, ট্রেইনার এবং কিছু সাপোর্ট স্টাফকেও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজন আবেদনকারীকে ‘ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা চাওয়ার’ অভিযোগে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, ‘কিছু ব্যক্তি ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট পরিচয়ে আবেদন করলেও তাদের প্রকৃত সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।’ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ আছে কিনা, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের এক শুনানিতে রুবিও বলেন, ‘খেলোয়াড় বা প্রকৃত সাপোর্ট স্টাফদের নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমরা চাই না, ক্রীড়া প্রতিনিধিদলের আড়ালে এমন কাউকে ঢোকানো হোক যাদের আইআরজিসি বা সামরিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।’ ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ইরানের কূটনৈতিক মহলও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তুরস্কের আঙ্কারায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকের একটি পোস্টের জবাব দেয়। ওই পোস্টে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ইরান দলের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছিল। এর জবাবে ইরানি দূতাবাস লিখেছে, ‘ফিফার নিয়ম এবং আয়োজক দেশের দায়িত্ব লঙ্ঘন করে আপনি কেবল নিজেদের প্রশংসা করে বিষয়টি আড়াল করতে পারবেন না। এটি খেলাধুলায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে খারাপ উদাহরণ।’ বিশ্বকাপে ইরানের সূচি ইরান ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুটি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। প্রথম ম্যাচে ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ২১ জুন খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। দুটি ম্যাচই হবে ইংলউডে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে খেলবে ইরান। বিশেষ পরিস্থিতিতে যদি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়, তাহলে ৩ জুলাই টেক্সাসের আরলিংটনে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মুখোমুখি হতে পারে দুই দেশ। যুদ্ধ, রাজনীতি ও দল গঠনের চ্যালেঞ্জ ইরানের বর্তমান স্কোয়াড গঠনও ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে অনেক ঘরোয়া ক্লাব ফেব্রুয়ারির পর আর খেলেনি। তারপরও ১৭ জন স্থানীয় লিগের ফুটবলারকে দলে রাখা হয়েছে। তবে অভিজ্ঞ তারকা ফরোয়ার্ড সরদার আজমুনকে মার্চে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। জানা গেছে, যুদ্ধকালীন এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের কারণে তিনি কর্তৃপক্ষের অসন্তোষের মুখে পড়েন। মার্চে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী পর্যন্ত বলেছিলেন, ‘বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে।’ কিন্তু মে মাসে ইরান ফুটবল ফেডারেশন নিশ্চিত করে যে তারা বিশ্বকাপে খেলবে এবং পুরো দল নিয়েই অংশগ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ফেডারেশন বিশেষভাবে জোর দিয়েছিল, সামরিক বাহিনীতে অতীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদেরও ভিসা দিতে হবে। বিশ্বকাপের আগে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন কিছু নয়। তবে আয়োজক দেশের সঙ্গে এমন কূটনৈতিক টানাপোড়েন ইরানের প্রস্তুতিকে কঠিন করে তুলেছে। একদিকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি, অন্যদিকে ভিসা জটিলতা ও রাজনৈতিক নজরদারি- সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েই ২০২৬ বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছে ইরান। এখন দেখার বিষয়, মাঠের ফুটবলের বাইরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলে। আইএইচএস/

Go to News Site