Collector
৫৫ বছরে দেশের যাত্রা মসৃণ ছিল না: মঈন খান | Collector
৫৫ বছরে দেশের যাত্রা মসৃণ ছিল না: মঈন খান
Jagonews24

৫৫ বছরে দেশের যাত্রা মসৃণ ছিল না: মঈন খান

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আমরা এমন একটি জাতি, যে জাতি বিগত ৫৫ বছরে বারবার বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে সামনে এগিয়েছে। আমাদের যাত্রাপথ কিন্তু মসৃণ ছিল না। রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। তিনি বলেন, ‘যে স্বাধীনতার জন্য আমাদের দেশে লাখ লাখ মানুষ জীবন দিয়েছিলেন এবং যে বাংলাদেশ আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, সেই বাংলাদেশ কিন্তু ৫৫ বছরে আমরা বিনির্মাণ করতে পেরেছি—তা কিন্তু নয়।’ মইন খান বলেন, একদিকে আমরা বলি যে ৫৫ বছর একটি জাতির জীবনে তেমন কোনো দীর্ঘ সময় নয়। আপনারা দেখছেন, এখন লক্ষ্য করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পালন করতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিক একইভাবে এটাও বলব যে ৫৫ বছর কিন্তু একেবারে কম সময়ও নয়। কাজেই বাংলাদেশ এখন একটি শিশু রাষ্ট্র—সেই অজুহাত দিয়ে আমরা আমাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাব, সেটা আমি মনে করি না। আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সেই দায়িত্ব আরও সমর্পণ করে নিয়ে যেতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেক কথা বলা উচিত, কিন্তু এই কথাটা সচরাচর বলা হয়নি। ১৯৬৫ সালে যে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধে তার যে ভূমিকা তিনি রেখেছিলেন, সম্ভবত সেই যুদ্ধের বিজয়ের জন্য তিনি ‘হিলাল-ই-জুরাত’ পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমি এই কথাটি উল্লেখ করছি এই কারণে—ইতিহাসে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। ৭১-এর ছয় বছর আগে। মইন খান বলেন, আমি জেনেছি এবং জেনেই বলছি, তিনি করাচিতে যখন পোস্টেড ছিলেন—যারা সামরিক বাহিনীতে আছেন, জয়নাল আবেদীন আছেন, তিনি জানেন—করাচিতে যখন পোস্টেড ছিলেন, এবং এই কারণেই আমি ১৯৬৫ সালের সেই যুদ্ধের কথা উল্লেখ করছি, যে যুদ্ধে তিনি প্রথম নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তখন থেকে একটি তথ্য আমি বলছি। করাচিতে থাকাকালীন সময়ে বাংলাদেশ, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে অনেকে করাচিতে যেতেন। তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে আমি অবহিত হয়েছি যে তখনই কিন্তু প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তখনকার সৈনিক জিয়াউর রহমান—তখন তিনি মেজর হননি, ক্যাপ্টেন ছিলেন—তিনি তাদের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের বঞ্চনা এবং রাজনৈতিকভাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যে পরিস্থিতি, সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতেন। মইন খান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘৭১ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষণাটি দিয়েছিলেন, এটা কি তাৎক্ষণিক ছিল, নাকি এই চিন্তাধারা তার অনেক আগে থেকেই ছিল?’ তিনি বলেন, এই প্রসঙ্গে কর্নেল জয়নাল আবেদীনের সঙ্গেও আমি আলাপ করছিলাম। কেন আজ, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ৫৫ বছর পরে, কেন আজ পর্যন্ত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে গড়ে ওঠেনি সে প্রশ্ন কি আমরা করতে পারি না? মইন খান বলেন, বাংলাদেশ সরকারের অনেক আগের দায়িত্ব ছিল। যে দায়িত্ব সরকার পালন করেনি। আমাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সেই ঘোষণা আনতে পারবো। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, বিগত সরকার গুম-খুন ও দুর্নীতির রাজনীতির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধের অস্তিত্বকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদেরও গুম-খুনের শিকার হতে হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্থাপনাগুলো বেহাল অবস্থায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়নের সার্বিক বিষয়ে কাজ করা হবে। আরও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল মো. জয়নুল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খান, সাধারণ সম্পাদকসহ অনেকে। কেএইচ/এমআইএইচএস/

Go to News Site