Jagonews24
লর্ডস টেস্ট শেষ হয়ে গেলো চারদিনে। এই চারদিন আক্ষরিক অর্থে রাজত্ব করলেন বোলাররা। বিশেষ করে দুই ইংলিশ পেসার ওলি রবিনসন ও গাস অ্যাটকিনসন। নিউজিল্যান্ডের নাথান স্মিথ তাদের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও দলীয় সাফল্যে পিছিয়ে থাকলো তার দল। চারদিনে শেষ হওয়া টেস্টে সফরকারী নিউজিল্যান্ডকে ১১৫ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড অলআউট হয় ১৪০ রানে। কাইল জেমিসন নেন ৫ উইকেট। জবাব দিতে নেমে নিউজিল্যান্ড অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১১৩ রানে। ইংলিশ বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি কোনো কিউই ব্যাটার। ওলি রবিনসন নেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১৪০ রান করেও ২৭ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। এবার আগুন ঝরান নাথাম স্মিথ। ৬ উইকেট নেন তিনি। তবে ২২৬ রান করে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। এমিলিও গে ৫৭ রান করেন। জয়ের জন্য ২৫৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড অলআউট হলো ১৩৮ রানে। ডেভন কনওয়ে ৪১ ও গ্লেন ফিলিপস অপরাজিত ৪৪ রান করেন। এবার ইংল্যান্ডের হয়ে ৫ উইকেট নেন অলি রবিনসন। এই ম্যাচ জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বেন স্টোকসের দল। ইংল্যান্ডের জন্য জয়টা ছিল স্বস্তির হলেও লর্ডসের উইকেট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। অসমান বাউন্স আর ভয়ংকর সুইং-সিমে ভরা পিচে ব্যাটারদের টিকে থাকাই ছিল কঠিন। ম্যাচ শেষে আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল লর্ডসের উইকেট। চার দিনের এই টেস্টে এমন অবস্থা হয়েছিল যে, প্রতি ২৪.৯ বল পরপর একটি করে উইকেট পড়েছে। ইংল্যান্ডে ১৯০৭ সালের পর কোনো টেস্টে এত দ্রুত উইকেট পড়ার নজির নেই। ম্যাচের ৪০ উইকেটের মধ্যে ২৪টিই হয়েছে বোল্ড বা এলবিডব্লিউ। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়- দুই দলের কোনো অধিনায়কই একবারও স্পিনার ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করেননি। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন হ্যারি ব্রুক। নিউজিল্যান্ডের কাইল জেমিসন ৫ উইকেট নেন ৬২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেন এমিলিও গে, করেন ম্যাচসেরা ৫৭ রান। তবে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন ইংল্যান্ডের পেসাররা। প্রথম ইনিংসে অলি রবিনসনের ৫ উইকেট নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দেয়। আর দ্বিতীয় ইনিংসে গাস অ্যাটকিনসনের ৫ উইকেটে শেষ হয়ে যায় কিউইদের প্রতিরোধ। ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড চতুর্থ দিনের সকালে ছিল ৫ উইকেটে ৫৫ রান। সেখান থেকে ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে। দিনের প্রথম পূর্ণ ওভারেই জশ টংয়ের বলে এলবিডব্লিউ হন টম ব্লান্ডেল। এরপর একপ্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান গ্লেন ফিলিপস। ফিলিপস শুরু থেকেই বুঝেছিলেন, এই উইকেটে রক্ষণাত্মক ক্রিকেট খেলে টিকে থাকা কঠিন। তাই পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেন। কিছু দারুণ বাউন্ডারিতে ম্যাচে সাময়িক উত্তেজনা ফেরান তিনি। কিন্তু অন্যপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত তার লড়াইও বৃথা যায়। ডেভন কনওয়ের সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি ছিল ম্যাচের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অথচ পাঁচ বছর আগে এই লর্ডসেই টেস্ট অভিষেকে ডাবল সেঞ্চুরি করা কনওয়েকে এবার দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। অনিশ্চিত বাউন্সে বারবার অস্বস্তিতে পড়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বেন স্টোকসের বলে গালিতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর পুরো নিয়ন্ত্রণ নেন গাস অ্যাটকিনসন। কনকাশনের কারণে প্রস্তুতিতে বাধা পড়লেও ঘণ্টায় প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন তিনি। নাথান স্মিথকে ক্যাচে পরিণত করার পর কাইল জেমিসনকে শর্ট মিডউইকেটে তুলে দেন। শেষদিকে ম্যাট হেনরির মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দিয়ে পূর্ণ করেন নিজের পঞ্চম টেস্ট ফাইফার। লর্ডসে অ্যাটকিনসনের রেকর্ড এখন অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এই মাঠে মাত্র ছয় ইনিংসে তার উইকেট সংখ্যা ২৬, গড় মাত্র ৯.৫০। দুই বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই ১২ উইকেট নিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এখানেই করেছিলেন সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেট। এবার আবারও ম্যাচ জেতালেন। তবুও ম্যাচসেরার পুরস্কার গেছে অলি রবিনসনের হাতে। আড়াই বছর পর ইংল্যান্ড দলে ফিরে তিনি ম্যাচে নিয়েছেন ৭ উইকেট ৭৭ রানে। নিজের টেস্ট বোলিং গড় নামিয়ে এনেছেন ২২-এর নিচে। ম্যাচ শেষে রবিনসন বলেন, ‘এটা কেবল শুরু।’ ইংল্যান্ডের জন্য এই জয় অবশ্য মানসিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ গত শীতে অস্ট্রেলিয়ায় ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর সমালোচনার মুখে ছিল দলটি। তবে এমন উইকেটে পাওয়া এই জয় থেকে খুব বেশি ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়াও কঠিন। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম আফসোস করেছেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নিয়ে। ম্যাচে চারটি ক্যাচ ফেলেছে নিউজিল্যান্ড। এছাড়া এমিলিও গের এলবিডব্লিউয়ের একটি সুযোগ রিভিউ না নেওয়াও বড় ভুল হয়ে দাঁড়ায়। তখন গের রান ছিল ২৪, পরে তিনিই ম্যাচের সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন। ল্যাথাম বলেন, ‘এত ছোট একটি ম্যাচে ছোট ছোট মুহূর্তই পার্থক্য গড়ে দেয়।’ দুই দলের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ১৭ জুন, দ্য ওভালে। এরপর ২৫ জুন ট্রেন্ট ব্রিজে হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। আইএইচএস/
Go to News Site