Collector
সবসময় অনলাইনে থেকেও একা কেন লাগে | Collector
সবসময় অনলাইনে থেকেও একা কেন লাগে
Jagonews24

সবসময় অনলাইনে থেকেও একা কেন লাগে

আধুনিক জীবনে স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা কোনো না কোনোভাবে অনলাইনে থাকি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, মেসেজিং অ্যাপ, ভিডিও কল সব মিলিয়ে মনে হয় আমরা সবসময় মানুষের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। এই ডিজিটাল ভিড়ের মাঝেও অনেক মানুষ গভীর একাকীত্ব অনুভব করেন। ডিজিটাল সংযোগের সঙ্গে বাস্তব সম্পর্কের দূরত্ব অনলাইনে থাকা মানেই যে আমরা সত্যিকারের সম্পর্কের মধ্যে আছি, এটা পুরোপুরি ঠিক নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা যত সহজে কারো পোস্টে লাইক দিই বা কমেন্ট করি, ততটা সহজে নিজের অনুভূতি খুলে বলা যায় না। এই কারণে অনেক ‘অনলাইন কানেকশন’ থাকলেও ভেতরে ভেতরে তৈরি হয় এক ধরনের শূন্যতা। কারণ মানুষ শুধু উপস্থিতি চায় না, চায় অনুভূতির সংযোগ। তুলনার চাপ এবং মানসিক দূরত্ব সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তুলনা। আমরা অন্যদের জীবনের সুন্দর মুহূর্তগুলো যেমন ভ্রমণ, সাফল্য, হাসিখুশি মুহূর্ত দেখি। কিন্তু নিজের বাস্তব জীবনের সাধারণ দিনগুলোর সঙ্গে তা মিলিয়ে ফেলি। ফলে অজান্তেই মনে হয়, অন্য সবাই ভালো আছে, শুধু আমি পিছিয়ে আছি। এই তুলনা ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং একাকীত্ব বাড়ায়।   কথোপকথনের অভাব আগে মানুষ মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় কথা বলত। এখন সেই জায়গা নিয়েছে ছোট ছোট মেসেজ, ইমোজি আর স্টোরি রিপ্লাই। যোগাযোগ আছে, কিন্তু গভীরতা নেই। কারো মন খারাপ হলে তাকে সত্যিকারের সময় দিয়ে শোনা বা পাশে বসে থাকার মতো পরিস্থিতি অনেকটাই কমে গেছে। ফলে সম্পর্কগুলো থাকে, কিন্তু সেই সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায়। মানসিক দূরত্ব ও ব্যস্ততা বর্তমান জীবন খুব দ্রুতগতির। পড়াশোনা, কাজ, সামাজিক চাপনিয়ে আমরা সারাদিন ব্যস্ত থাকি। অবসরের সময়েও অনেকেই ফোন বা স্ক্রিনে ডুবে থাকেন। নিজের অনুভূতির দিকে মনোযোগ দেওয়ার সময় কমে যায়। অন্যের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগও হারিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মনে হয়, চারপাশে মানুষ থাকলেও নিজের কথা বলার মতো কেউ নেই। একাকীত্ব কেন বাড়ছে? একাকীত্ব মানে শুধু একা থাকা নয়, বরং বোঝা না যাওয়ার অনুভূতি। অনলাইনে হাজারো মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যদি কেউ আমাদের অনুভূতি না বোঝে, তাহলে একাকীত্ব তৈরি হবেই।এই কারণে আজকের ডিজিটাল যুগে অনেক মানুষের ‘কানেক্টেড’ জীবন থাকলেও ‘ইমোশনালি ডিসকানেক্টেড’ অনুভূতি তৈরি হয়। যেভাবে এই অনুভূতি কমানো যায় একাকীত্ব কমাতে হলে শুধু অনলাইন জীবন যথেষ্ট নয়, বাস্তব সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবার, বন্ধু বা কাছের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো খুব জরুরি। প্রতিদিন কিছু সময় মোবাইল থেকে দূরে থাকা, হাঁটাহাঁটি করা, বই পড়া বা নিজের শখের কাজে সময় দেওয়া মানসিক শান্তি বাড়াতে সাহায্য করে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের অনুভূতিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সেগুলো কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। অনলাইনে থাকা আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, কিন্তু মানসিক সংযোগের বিকল্প হতে পারেনি। সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন আমরা একে অপরকে সময় দিই, মন দিয়ে শুনি এবং অনুভব করি। সূত্র: মিডিয়াম, সাইকোলজি টুডে,আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য আরও পড়ুনসম্পর্ক গভীর হলেই দূরত্ব বাড়ে কেন? নতুন ট্রেন্ডে কেন জেন জিরা পুরোনো প্রেমের রীতিতে ফিরছে  এসএকেওয়াই

Go to News Site