Collector
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের জন্য কী ইঙ্গিত দিচ্ছে? | Collector
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের জন্য কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?
Somoy TV

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের জন্য কী ইঙ্গিত দিচ্ছে?

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বাংলাদেশ সফরকে ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় এই সফরের মধ্য দিয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক, যা বাংলাদেশের কৌশলগত পরিসর সম্প্রসারণেরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতবাহী।ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্ক। একদিকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র। সামরিক প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে দেশটির উপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে। তিন দিনের সফরে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বাংলাদেশে এসেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। পরদিন শুক্রবার সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন হাকান ফিদান। এ সময় ঢাকা-আঙ্কারা সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। একইদিন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন তিনি। কূটনীতিতে আসার আগে দীর্ঘ সময় দেশটির জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে থাকা ফিদানকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে তার ঢাকা সফরকে শুধুমাত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের নিয়মিত যোগাযোগের অংশ নয় বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সমীকরণের প্রেক্ষাপটে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে দুদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইস্তাম্বুল গেলিসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ বলেন, ‘বাংলাদেশের এই মুহূর্তে তৃতীয় কিংবা আরও দূরের দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা দরকার। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের জায়গাটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে হতে পারে।’ আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা ও এভিয়েশনে একসঙ্গে কাজ করবে ঢাকা-আঙ্কারা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বলেন, ‘তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাত বাড়ানোর সহযোগিতা জোরদার করা অবশ্যই প্রয়োজন। বাংলাদেশ সেটা যৌথভাবে দেখতে পারে।’ বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোভুক্ত একটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বাংলাদেশের কৌশলগত বিকল্প ও আন্তর্জাতিক পরিসরকে সম্প্রসারিত করতে পারে। তবে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের অংশ না হয়ে, জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পরামর্শ তাদের। আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস তুরস্কের ড. রহমাত উল্লাহে বলেন, ‘আমাদের শুধু একটু রাজনৈতিক কৌশলের দরকার। সেইসঙ্গে সফলভাবে ব্যবস্থাপনা করা দরকার। যদি করা সম্ভব হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবর্তনের যে হাওয়া বইছে, সে হাওয়ায় বাংলাদেশ কিন্তু অনেক উন্নত স্তরে চলে যেতে পারে।’ ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের অগ্রগতি এখন বাংলাদেশের কৌশলগত সক্ষমতা ও পররাষ্ট্রনীতির বিচক্ষণতারও একটি পরীক্ষা বলেও মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

Go to News Site