Collector
বাড়ছে সামুদ্রিক প্রাণীর রহস্যজনক মৃত্যু, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা? | Collector
বাড়ছে সামুদ্রিক প্রাণীর রহস্যজনক মৃত্যু, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
Somoy TV

বাড়ছে সামুদ্রিক প্রাণীর রহস্যজনক মৃত্যু, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

গত নয় বছরে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে ১৪৪টি মৃত ডলফিন ও তিনটি বিশাল তিমি। এর মধ্যে চলতি বছরেই পাওয়া গেছে ১০টি সামুদ্রিক প্রাণীর মৃতদেহ। একের পর এক ডলফিন ও তিমির রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।সম্প্রতি কুয়াকাটা সৈকতে ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে আসে ৫৮ ফুট দৈর্ঘ্যের বেলিন প্রজাতির একটি মৃত তিমি। গত দুই দশকে সৈকতে ভেসে আসা তিমিগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। শুধু তিমিই নয়, প্রায়ই সৈকতে ভেসে আসছে মৃত ডলফিন, কচ্ছপসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণী। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মধ্যে। তবে কেন মারা যাচ্ছে এসব সামুদ্রিক প্রাণী? সমুদ্রের গভীরে কি নতুন কোনো পরিবেশগত সংকট তৈরি হচ্ছে? নাকি সমুদ্রই কোনো অশনিসংকেত দিচ্ছে? ডলফিন রক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত নয় বছরে কুয়াকাটা সৈকতে অন্তত ১৪৪টি মৃত ডলফিন ও তিনটি তিমি ভেসে এসেছে। শুধু চলতি বছরেই পাওয়া গেছে নয়টি ডলফিন ও একটি তিমির মরদেহ। তবে এসব প্রাণীর মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই মাটিচাপা দেয়া হয়েছে। ফলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অজানাই থেকে যাচ্ছে। কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, বিভিন্ন মৃত তিমি ও ডলফিনের উপসর্গ সম্পর্কে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থাকে তথ্য দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি, কী কারণে এসব প্রাণীর মৃত্যু হচ্ছে। আরও পড়ুন: সৈকতে ভেসে এলো বিশালাকৃতির মৃত বেলিন তিমি কুয়াকাটা উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, মৃত্যুর হার ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু এর পেছনের মূল রহস্য এখনো উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি দ্রুত ও সঠিকভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। গবেষকদের মতে, ডলফিন শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। জাহাজের ধাক্কা, প্লাস্টিক দূষণ, খাদ্যের সংকট, পানির গুণগত পরিবর্তন কিংবা মাছ ধরার জালে আটকে যাওয়ার মতো কারণগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হলেও প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এজন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ফরেনসিক পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামসুজ্জোহা বলেন, কোনো এলাকায় ডলফিনের অনুপস্থিতি দেখা গেলে তা পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। এটি সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্যহীনতারও লক্ষণ হতে পারে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রাজিব সরকার বলেন, মৃত ডলফিনের কঙ্কাল সংরক্ষণ করা গেলে তা পর্যটকদের জন্য শিক্ষণীয় হবে। পাশাপাশি মৎস্যবিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যার শিক্ষার্থীরাও এসব কঙ্কাল থেকে ডলফিনের অঙ্গসংস্থান ও শারীরিক গঠন সম্পর্কে জানতে পারবেন। এদিকে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সমুদ্রের পানিতে ১৭৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষকদের আশঙ্কা, খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা ডলফিন ও তিমির শরীরে প্রবেশ করছে, যা তাদের মৃত্যুঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

Go to News Site