Collector
৪১ মিনিট ধরে রায় পড়ে শোনান বিচারক, এজলাসে নীরব সোহেল-স্বপ্না | Collector
৪১ মিনিট ধরে রায় পড়ে শোনান বিচারক, এজলাসে নীরব সোহেল-স্বপ্না
Jagonews24

৪১ মিনিট ধরে রায় পড়ে শোনান বিচারক, এজলাসে নীরব সোহেল-স্বপ্না

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) সকাল থেকেই ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমকর্মীদের সরব উপস্থিতি। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টায় রায় ঘোষণার সময় নির্ধারণ করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আসামিদের ট্রাইব্যুনালের এজলাসে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে পুলিশ। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে এজলাসে তোলা হয়। পরে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আসামি স্বপ্না আক্তারকে এজলাসে আনা হয়। আদালত সূত্র জানায়, স্বপ্নাকে এজলাসে প্রবেশ করানোর সময় সোহেল প্রথমে মুখ নিচু করে রাখেন। পরে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর দুই আসামিকে কাঠগড়ায় রাখা হয়। এর আগে সকাল ৮টা ২৯ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে এবং সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল রানাকে আদালতে আনা হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান জানান, রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে অতিরিক্ত তিন প্লাটুন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ৬০ জন অতিরিক্ত সদস্যের পাশাপাশি আদালত এলাকায় আগে থেকেই নিয়োজিত প্রায় ৪০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সব মিলিয়ে শতাধিক পুলিশ সদস্য আদালত এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন। বেলা ১১টায় বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় পড়া শুরু করেন। রায় পাঠের শুরুতে মামলার ঘটনা, তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, মামলায় শিশু ধর্ষণ, হত্যা এবং অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর অভিযোগ, তদন্তে পাওয়া আলামত, ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে আদালত দোষ প্রমাণের বিষয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্য, আলামত এবং অন্যান্য প্রমাণের আলোকে দুই আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আসামিদের দেওয়া বক্তব্য ও জবানবন্দির বিভিন্ন অংশও রায়ে তুলে ধরা হয়। রায়ে আদালত বলেন, প্রধান আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং সহ-আসামি স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। রায় ঘোষণার পুরো সময় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কাঠগড়ার পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার একটি টুলে বসে ছিলেন। প্রায় ৪১ মিনিট ধরে রায় পাঠ শেষে বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো। রায় ঘোষণা শেষে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। গত ১৯ মে মিরপুরে নিজ বাসার পাশের একটি ফ্ল্যাটে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। দ্রুত তদন্ত শেষে ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ, ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হলো। এমডিএএ/এসএনআর

Go to News Site