Jagonews24
মাগুরায় স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখে জিহাদ হোসেন (১৮) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিবারের দাবি, দাম্পত্য কলহ ও অভিমানের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টার দিকে মাগুরা শহরের স্টেডিয়াম পাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জিহাদ মাগুরা সদর উপজেলার কুঁচিয়ামোধা ইউনিয়নের আমুরিয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ঝালকাঠির মীম খাতুনের সঙ্গে জিহাদের পরিচয় হয় এবং পরে দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। স্বজনদের ভাষ্যমতে, ঈদ উপলক্ষে বাবার বাড়ি যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। জিহাদ স্ত্রীকে ঈদের নামাজের পর নিজে নিয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দিলেও মীম তা মেনে নেননি। একপর্যায়ে তিনি সংসার ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে যান। শনিবার দিনগত রাতে জিহাদ বারবার স্ত্রীকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করলেও মীম খাতুন স্পষ্ট মানা করে দেন। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ভিডিও কলে রেখেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন জিহাদ। জিহাদের কাকি লিমা খাতুন বলেন, জিহাদ বারবার তার স্ত্রীকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে। ফোন করেছে, বুঝিয়েছে, কিন্তু কোনোভাবেই তাকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। নিহতের ছোট বোন অপর্ণ বলেন, ভাই অনেকবার ভাবিকে ফিরে আসতে বলেছে। কিন্তু তিনি আসবেন না বলে জানিয়ে দেন। সেই কষ্ট, অভিমান ও মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। মাগুরা সদর থানার এসআই মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, ভিডিও চালু অবস্থায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জিহাদ। ঘটনাস্থল থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেএইচকে/এমএস
Go to News Site