Somoy TV
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ সাতক্ষীরায় নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে।রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের মরদেহ বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ সংস্থার অ্যাম্বুলেন্সে তার বাড়িতে এসে পৌঁছায়। তার মরদেহ পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়ে তার দুই মেয়ে স্ত্রী। বাবা-মায়ের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সময় আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলামের মরদেহ তার বাড়িতে পৌঁছেছে। নিহতের বাবা আফসার আলীর একটিই চাওয়া পাওয়া নাতনী দুটির পড়াশোনা করার ব্যবস্থা করুক সরকার। বোন দুটি চায়, তার একমাত্র ভাই শফিকুল এখন তাদের দেখার কেউ নেই। মেয়ে দুটি যাতে লেখাপড়া করতে পারে। সংসার যাতে চালাতে পারে সরকার সেদিকে যেন খেয়াল রাখে। ঋণের বোঝা মাথার ওপর, কীভাবে তারা বাঁচতে পারে সেই ব্যবস্থা যেন সরকার করে।নিহতের মেয়ে তামান্না আকতার বৃষ্টি জানায়, তাদের লেখাপড়া ও সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম তার বাবা। সেই বাবা নেই, কীভাবে চলবে তাদের তা দেখার দাবি সরকারের কাছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ফারুক হোসেন মিঠু জানালেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা এদের পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার দাবি তার।আরও পড়ুন: সাতক্ষীরা শহরে নিজ বাড়িতে নারীর গলিত মরদেহ, ছড়াচ্ছিল দুর্গন্ধনিহতের মেয়ে দুটির ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আবু হানিফ বাবলু জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা সহ সরকারি চাকরির ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তার।গত ১১ মে লেবাননের নাবাতিহ জেলার জেবদিন এলাকায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন।বাংলাদেশ দূতাবাস নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনাসহ লেবানন থেকে তাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছে। তাছাড়া মরদেহ দাফন-কাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকার চেক তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে। রোববার জোহরের নামাজের পর তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
Go to News Site