Collector
নিজের কৃতকর্মের জন্য বাবা ও ছেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন সোহেল | Collector
নিজের কৃতকর্মের জন্য বাবা ও ছেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন সোহেল
Somoy TV

নিজের কৃতকর্মের জন্য বাবা ও ছেলের কাছে ক্ষমা চাইলেন সোহেল

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা নিজের অপরাধের জন্য তার বাবা ও ছেলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।শনিবার (৬ জুন) সকালে কারা কর্তৃপক্ষের ফোন থেকে নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে বসবাসকারী তার বাবা জেকের আলী ও ছেলের সঙ্গে কথা বলেন সোহেল রানা।এ সময় ফোনে নিজের অপরাধের জন্য বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সোহেল। একই সঙ্গে দাদার বাড়িতে অবস্থানকারী সোহেলের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ১০ বছরের মিনহাজের সঙ্গে তিন বছর পর কথা বলেন তিনি। ছেলের কাছেও ক্ষমা চেয়ে নেন সোহেল।এর আগে আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। রায়ের পর পরিবারে সদস্যরা ছিলেন বিমর্ষ। প্রতিক্রিয়া ছিলো না প্রতিবেশীদের মাঝেও।আরও পড়ুন: ‘৩ ফুটের মধ্যেও শিশুর নিরাপত্তা নেই’: রামিসা ধর্ষণ ও হত্যায় সর্বোচ্চ শাস্তি চান বাবানারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামিদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। এই অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগী শিশু রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারী (মা-বাবা) পাবেন। আসামিরা এই ক্ষতিপূরণ না দিলে তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে রামিসার পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত গত ২৪ মে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন।এরপর গত ২ জুন এ মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্তকরণ, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে পালাতে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সহায়তা করেছিলেন, সেই বিবরণও উঠে এসেছে।আরও পড়ুন: রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডসাক্ষ্যগ্রহণ শেষে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, ‘আমিও দোষ করছি, ডলারও দোষ করছে স্যার। আমাকেও সাজা দেন, সঙ্গে ওকেও দেন।’ তবে নিজের স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে স্বপ্নার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার, আমি নির্দোষ।’ আদালত উভয় আসামির বক্তব্য রেকর্ড করে রায়ের দিন চূড়ান্ত করেন।এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়া হয়।

Go to News Site