Somoy TV
রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে দিনেদুপুরে প্রকাশ্যে লোকমান হোসেন (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৭ জুন) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর সংলগ্ন জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখার সামনে এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে ওই ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রকাশ্যে এই ছিনতাইয়ের ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতোমধ্যে সামনে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, রাস্তার ওপর একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড়িয়ে আছে। বিকেল ২টা ৩ মিনিটের (ফুটেজের সময় অনুযায়ী) দিকে রাস্তায় চলাচলরত পথচারী ও রিকশাচালকরা হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বাসের পেছনের দিকে তাকাতে থাকেন। মূলত বাসের আড়ালেই গোলাগুলি ও ছিনতাইয়ের মূল ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ মানুষকে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে আহত লোকমান হোসেন একজন মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ী। আরও পড়ুন: রাজধানীতে ডিবি পরিচয়ে স্বর্ণ ও টাকা ছিনতাই, গ্রেফতার ৯ ওসি বলেন, ‘তিনি মতিঝিল শাপলা চত্বর দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং তার সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে আনুমানিক ১৭ লাখ টাকা ছিল। ওই ব্যবসায়ীর হাতের কনুইর নিচে একটি এবং হাঁটুর নিচে দুটি গুলি লেগেছে। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।’ ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘ছয়জন দুষ্কৃতকারী তিনটি মোটরসাইকেলে করে এসে লোকমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এরপর তারা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং জড়িতদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।’ গোয়েন্দা সূত্রের প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ছিনতাই এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত থাকতে পারে। ভুক্তভোগীর কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা থাকার তথ্য আগে থেকেই অপরাধীদের কাছে পৌঁছেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, অপরাধীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্তকরণ এবং ভিকটিমের গতিবিধি পর্যালোচনার মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এছাড়া, ঘটনার পর থেকে মতিঝিল ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
Go to News Site