Somoy TV
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় যখন গোটা দেশ কাঁপছে, তখন প্রিয় দল নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে ভিন্ন এক উন্মাদনায় মেতেছেন নারায়ণগঞ্জের এক ভক্ত। নিজ বাড়ির একটি পুরো ঘর ডাচ ফুটবলের নানা দুর্লভ স্মৃতি ও স্মারক দিয়ে সাজিয়ে তিনি রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার সাজানো এই ঘরটি দেখলে মনে হবে এটি যেন বাংলাদেশের বুকে ছোট্ট একটি নেদারল্যান্ডস।রোববার (৭ জুন) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা লস্করের বাড়িতে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। পেশায় প্রথম শ্রেণির এই সরকারি কর্মকর্তা দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে হৃদয়ে ধারণ করে রেখেছেন নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলের প্রতি গভীর ভালোবাসা। ৪৬ বছর বয়সি এই ফুটবলপ্রেমীর সংগ্রহে রয়েছে দেড় শতাধিক দুর্লভ স্মারক। পুরো ঘরজুড়ে শোভা পাচ্ছে নেদারল্যান্ডস দলের বিভিন্ন সময়ের জার্সি, টি-শার্ট, জ্যাকেট, ট্রাকস্যুট ও পতাকা। বিছানার চাদর, চাবির রিং, লাইটার, অ্যাশট্রে, খেলনা গাড়ি, পানির মগ, ফ্লাস্ক, প্লেট, ক্যালেন্ডার, বেলুন, মাথার ক্যাপ, রিস্টব্যান্ড, দেয়াল ঘড়ি, সাইড ব্যাগ, ল্যাপটপ প্যাড থেকে শুরু করে মেঝের কার্পেট পর্যন্ত সবকিছুতেই রয়েছে ডাচ ফুটবলের ছাপ। শুধু ঘরের ভেতরই নয়, ছয়তলা বাড়ির বাইরের দেয়াল, বারান্দা ও ছাদও তিনি নেদারল্যান্ডস দলের পতাকা দিয়ে সাজিয়েছেন। তবে সেখানে শুধু ডাচদের নয়, বিশ্বকাপে অংশ নেয়া অন্য দলগুলোর পতাকাও রয়েছে, যা বাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলের বিভিন্ন স্মারকে সাজানো নিজের ঘরে প্রিয় দলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় ফুটবলপ্রেমী মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা লস্কর। ছবি: সময় সংবাদ বদরুদ্দোজা লস্কর সময় সংবাদকে জানান, ১৯৭৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস ফুটবল দলের সব ধরনের জার্সি তার সংগ্রহে রয়েছে। দেশে ও বিদেশ থেকে তিনি দলটির ৮০ ধরনের শতাধিক জার্সি ও টি-শার্ট সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে খেলা দলটির একটি জার্সিও রয়েছে, যা তিনি ফ্রান্সপ্রবাসী এক শুভাকাঙ্ক্ষীর মাধ্যমে এনেছেন। তার বিশাল সংগ্রহশালায় আরও রয়েছে প্র্যাকটিস কিট, পেন্যান্ট, স্কার্ফ, ব্যানার, ডামি বিশ্বকাপ ট্রফি, ছোট-বড় অসংখ্য ফুটবল, শর্টস, লুঙ্গি, আইডি কার্ড এবং তারকা খেলোয়াড়দের ছবি সম্বলিত প্লেয়িং কার্ড। ছুটির দিনগুলোতে পরিবারকে সময় দেয়ার পাশাপাশি প্রিয় ঘরটিরও যত্ন নেন তিনি। আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফুটবল: জার্সির দোকানে যেন ঈদের হাওয়া বদরুদ্দোজা লস্কর নেদারল্যান্ডসের অন্ধ ভক্ত হলেও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ভিন্ন দলের সমর্থক। স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মিলি আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং বড় ছেলে আমির হামজা শ্রেষ্ঠ ও ছোট ছেলে সাদ আব্দুল্লাহ তায়েব জার্মানির ভক্ত। ভিন্ন দলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যরা লস্করের এই ভালোবাসায় কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াননি; বরং তারা তাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। এ বিষয়ে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মিলি সময় সংবাদকে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। তবে বিয়ের পর থেকে দেখছি আমার স্বামী নেদারল্যান্ডসের অন্ধ ভক্ত। আমাদের দুই ছেলে জার্মানির সমর্থক। এ নিয়ে আমাদের পরিবারে কারও সঙ্গে মতের কোনো অমিল নেই। তবে মাঝেমধ্যে বাবা-ছেলের মধ্যে খুনসুটি হয়, এটাও তিনি বেশ মজা পান। নেদারল্যান্ডস প্রীতির বিষয়ে আমরা সবাই তাকে উৎসাহ দিয়ে থাকি। তার এই রুমটা দেখতে আমাদেরও খুব ভালো লাগে।’ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডাচ ভক্ত বদরুদ্দোজা লস্করের বাড়ির বারান্দায় ঝোলানো প্রিয় দল নেদারল্যান্ডসের বড় ব্যানার ও বিভিন্ন দেশের পতাকা। ছবি: সময় সংবাদ ফুটবল বুঝতে শেখার পর ১৯৮৮ সালে নেদারল্যান্ডসের ইউরো কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্তটি দেখেছিলেন লস্কর। তখন থেকেই তিনি দলটির ভক্ত। প্রিয় দল নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি সময় সংবাদকে বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস বিশ্বকাপে তিনবার ফাইনালে খেলেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও আফসোসের বিষয়। তবে এবারের টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে নেদারল্যান্ডস বিশ্বসেরা তারকাদের নিয়ে খুব শক্তিশালী দল গঠন করেছে। দলের রক্ষণভাগ, মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ সব ক্ষেত্রেই দলটি পরিপূর্ণ শক্তিশালী অবস্থানে আছে।’ লস্কর আরও বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। আমার বিশ্বাস, আমার প্রিয় দল নেদারল্যান্ডসই এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি জয় করে নিজেদের ঘরে ফিরবে।’
Go to News Site