Somoy TV
হাওড়াঞ্চলের অতি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় বোরো ধান রক্ষায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে। উচ্চফলনশীল নতুন উদ্ভাবিত ধান বর্তমানে প্রচলিত সময়ের দুই মাস আগেই কার্তিক মাসে অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরে মধ্যে লাগাতে পারবেন হাওড়পাড়ের কৃষকরা। থাকবে না পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির ভয়; দুই মাস আগেই ঘরে উঠবে কাঙ্ক্ষিত ফসল!সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বোরো মৌসুমে নয় দিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জসহ সাত জেলার হাওড়ের ৪৯ হাজার ৭৩ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার মতো। প্রতিবছর এমন ক্ষতি থেকে রক্ষায় হাওড়বাসীর দাবি আগাম ও স্বল্প সময়ের ধানের জাত। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট শোনাল সেই সোনালী আগামীর কথা।হাওড়পাড়ের কৃষকরা বোরো ধান ঘরে তোলার আশায় বুক বেঁধে থাকেন। সারা বছরের জীবিকা নির্ভর করে যে ফসলের ওপর, সেই ফসল শেষ ঘরে তুলতে পারবেন কিনা এমন শঙ্কায় থাকেন প্রতি বছর।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত হওয়া ৯ দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হাওড়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮১১ জন ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষি। শুধু সুনামগঞ্জ জেলাতেই ৫১৮ কোটি টাকার ধানের ক্ষতি হয়েছে।আরও পড়ুন: নিবন্ধন পেল ধান-গমের ৩ জাতসিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া- এই সাত জেলার ৪৯ হাজার ৭০ হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেত্রকোনা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কিশোরগঞ্জ।প্রায় প্রতিবছর আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার হাত থেকে বোরো ধান রক্ষায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) নতুন জাতের ধান আবিষ্কার করেছে ব্রি-ধান ১১৮।বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সাইন্টিফিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া জানালেন, নতুন উদ্ভাবিত ধান বর্তমানে প্রচলিত সময়ের দুই মাস আগে, কার্তিক মাসে অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরে মধ্যে লাগাতে পারবেন হাওড় পাড়ের কৃষকরা। শীত সহনশীল ধানগাছগুলো বর্ষা মৌসুমের আগেই ঘরে তুলতে পারবেন তারা।আরও পড়ুন: হাওড়ের কৃষকদের জন্য সুখবরবাংলাদশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন), কৃষিবিদ মো. হুমায়ূন কবীর জানান, নতুন উদ্ভাবিত বীজধান দ্রুত কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে কৃষকের কাছে পৌঁছে যাবে এই ধান।সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আজিজ বলেন, বর্ষা মৌসুমের আগে এই ধান ঘরে তোলা যাবে। এতে হাওড়বাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।২০১৭ সালের বন্যায় হাওরের ৫ হাজার তিনশো কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়। ২০২২ সালে একশো কোটি টাকা। আর চলতি মৌসুমে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার বোরো ধান নষ্ট নয়। যার মধ্যে সিলেট অঞ্চলে ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ কোটি টাকার মতো।
Go to News Site