Collector
শোকজের জবাব দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় পেল আদ-দ্বীন | Collector
শোকজের জবাব দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় পেল আদ-দ্বীন
Somoy TV

শোকজের জবাব দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় পেল আদ-দ্বীন

রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশের জবাব দিতে আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় পেয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোববার (৭ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বাড়তি সময় মঞ্জুর করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে শোকজ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ‘মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ, ১৯৮২’ লঙ্ঘন করায় কেন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় ওই নোটিশে। এর জবাব দেয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টা অর্থাৎ রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব প্রস্তুত করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় প্রার্থনা করে, যা অধিদফতর অনুমোদন করেছে। এদিকে, আদ-দ্বীন হাসপাতালে অবহেলায় শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এর আগে আদ-দ্বীন হাসপাতালের আইনি উপদেষ্টা শিশির মনির এই ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন: আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশুর মৃত্যু: কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট গত ২৭ মে ভোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, তদন্তে হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। সংশ্লিষ্ট কক্ষটিতে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকায় এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশন না থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়। এছাড়া, ৯০০ বর্গফুটের ওই কক্ষে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি (প্রায় ৫০ জন) মানুষের উপস্থিতি ছিল। তদন্তে আরও উঠে আসে, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কোনো সক্রিয় ইমার্জেন্সি মেডিকেল রেসপন্স ছিল না। সেখানে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং দায়িত্বরত সেবিকাদের চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা ছিল। এসব গাফিলতি ও হাসপাতাল পরিচালনার শর্ত ভঙ্গের দায় নিরূপণ করেই স্বাস্থ্য অধিদফতর লাইসেন্স বাতিলের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল।

Go to News Site