Collector
মা-বাবাকে ভাগ করে নেওয়া কি শিক্ষার পরিচয়? | Collector
মা-বাবাকে ভাগ করে নেওয়া কি শিক্ষার পরিচয়?
Jagonews24

মা-বাবাকে ভাগ করে নেওয়া কি শিক্ষার পরিচয়?

১০ সন্তানকে মানুষ করে মা-বাবা, অথচ ১০ সন্তান মিলে একজন মা-বাবার দায়িত্ব নিতে পারে না। একজন মা যখন সন্তানের জন্ম দেন, তখন তিনি ভাবেন না এই সন্তান বড় হয়ে তাকে কতটুকু ফিরিয়ে দেবে। একজন বাবা যখন দিন-রাত পরিশ্রম করে সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেন, তখন তিনি হিসাব করেন না ভবিষ্যতে কে তার খোঁজ নেবে। মা-বাবার ভালোবাসা নিঃস্বার্থ, তাদের ত্যাগের কোনো পরিমাপ নেই। একজন মা-বাবা ১০ জন সন্তানকে একসঙ্গে মানুষ করতে পারেন। একই ছাদের নিচে সবাইকে আশ্রয় দেন, সবার জন্য সমান কষ্ট করেন, সবার সুখ-দুঃখ নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নেন। নিজেদের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করেন। কখনো নিজের নতুন কাপড় কেনেন না, কিন্তু সন্তানের জন্য নতুন জামা নিয়ে আসেন। কখনো নিজের ক্ষুধার কথা ভাবেন না, কিন্তু সন্তানের পেট যেন খালি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখেন। কিন্তু জীবনের শেষ বয়সে এসে অনেক মা-বাবাকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যে সন্তানদের জন্য সারাজীবন যুদ্ধ করেছেন, সেই সন্তানদের কেউ কেউ বৃদ্ধ মা-বাবাকে বোঝা মনে করতে শুরু করে। তখন শুরু হয় দায়িত্ব ভাগাভাগির হিসাব। মা থাকবেন এক সন্তানের কাছে, বাবা থাকবেন অন্য সন্তানের কাছে। কয়েক মাস পরপর স্থান পরিবর্তন হবে। যেন তারা কোনো মানুষ নন, বরং ভাগ করে নেওয়ার মতো কোনো সম্পদ। প্রশ্ন হলো, এটাই কি শিক্ষা? এটাই কি আধুনিকতা? এটাই কি সভ্য সমাজের পরিচয়? আমরা আজ শিক্ষার হার বৃদ্ধির কথা বলি, উচ্চশিক্ষার কথা বলি, উন্নত সমাজ গঠনের কথা বলি। কিন্তু যদি সেই শিক্ষা আমাদের মা-বাবার প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ না শেখায়, তাহলে সেই শিক্ষার প্রকৃত মূল্য কোথায়? অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষ বড় বড় পদে চাকরি করেন, সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বৃদ্ধ মা-বাবার খোঁজ নেওয়ার সময় তাদের নেই। অথচ একজন অল্পশিক্ষিত বা সাধারণ মানুষকে দেখা যায় নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও মা-বাবার সেবা করে যাচ্ছেন। এতে প্রমাণ হয়, প্রকৃত শিক্ষা শুধু বইয়ের পাতায় নয়; প্রকৃত শিক্ষা মানুষের আচরণ এবং মানবিকতায় প্রকাশ পায়। মা-বাবা কখনো সন্তানদের ভাগ করেন না। তারা সব সন্তানকেই সমান ভালোবাসেন। তাহলে সন্তানরা কেন মা-বাবাকে ভাগ করে? কেন জীবনের শেষ বয়সে এসে একজন মাকে তার স্বামীর কাছ থেকে, একজন বাবাকে তার জীবনসঙ্গিনীর কাছ থেকে আলাদা হয়ে থাকতে হয়? বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সন্তানের ভালোবাসা, সম্মান এবং পাশে থাকার। তারা বিলাসিতা চান না, বড় বাড়ি চান না, দামি উপহারও চান না। তারা শুধু চান সন্তানদের আন্তরিকতা, কিছু সময় এবং একটু ভালোবাসা। মনে রাখতে হবে, আজ যারা মা-বাবাকে অবহেলা করছেন, একদিন তারাও বৃদ্ধ হবেন। সময়ের চাকা কারও জন্য থেমে থাকে না। আজ আমরা আমাদের মা-বাবার সঙ্গে যেমন আচরণ করছি, আগামী প্রজন্ম আমাদের কাছ থেকে সেই শিক্ষাই গ্রহণ করবে। তাই আসুন, আমরা শুধু ডিগ্রিধারী শিক্ষিত মানুষ না হয়ে প্রকৃত মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি। মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও দায়িত্ববোধকে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করি। কারণ পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয় একজন মায়ের ভালোবাসা বা একজন বাবার ত্যাগের সমান শিক্ষা দিতে পারে না। মা-বাবাকে ভাগ করে নেওয়া নয়, তাদের সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে একসঙ্গে রাখাই হোক আমাদের মানবিকতার পরিচয়। এমআরএম

Go to News Site