Somoy TV
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬-এর চূড়ান্ত মূল্যায়নে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা (নারী) নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজা খানম। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ৯৯ নং নিলখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিক।ঢাকা বিভাগীয় বাছাই কমিটির মূল্যায়নে তাকে এই গৌরবময় মর্যদায় ভূষিত করা হয়। এর আগে, গোপালগঞ্জ জেলা বাছাই কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এবং সদস্য সচিব ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের যৌথ মূল্যায়নে তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষিকা নির্বাচিত হন। জেলা সেরার গৌরব অর্জনের পর বিভাগীয় পর্যায়েও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করলেন এই গুণী শিক্ষক। গত বুধবার (৩ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিভাগীয় বাছাই কমিটির সভাপতি ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও বাছাই কমিটির সদস্য সচিব প্রাথমিক শিক্ষা ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আবদুল আজিজের স্বাক্ষর করা ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। বিভাগীয় এই অনন্য অর্জনে গোপালগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন বইছে প্রশংসার জোয়ার। সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীমহল তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন। আরও পড়ুন: বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা নিয়ে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নির্দেশনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সূচকের ভিত্তিতে এই শ্রেষ্ঠত্ব নির্বাচন করা হয়। একজন শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, শ্রেণীকক্ষে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্ন, ব্যক্তিত্ব, সহ-পাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, হাতের সুন্দর লেখা এবং শিশুদের ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও কাব স্কাউটিংয়ের মতো সৃজনশীল ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের বিষয়টি প্রতিটি স্তরে যাচাই করা হয়। প্রথমে ইউনিয়ন বা ক্লাস্টার পর্যায় থেকে যাচাই-বাছাই করে তথ্যপ্রমাণ উপজেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। উপজেলা পর্যায়ে ভাইভা ও প্রামাণ্য দলিল যাচাই শেষে উপজেলা সেরা নির্বাচিত করা হয়। এরপর জেলা কমিটির মূল্যায়ন পার হয়ে বিভাগীয় কমিটির চূড়ান্ত যাচাইয়ে ঢাকা বিভাগের মধ্যে সেরা হিসেবে শীর্ষস্থান অধিকার করেন হাফিজা খানম। হাফিজা খানমের এই সফলতার যাত্রা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি ২০২২ ও ২০২৪ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারী সহকারী শিক্ষক এবং ২০২৪ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার গৌরব অর্জন করেছিলেন। ২০২৬ সালে এসে তিনি আগের সব রেকর্ড ভেঙে ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করলেন। আরও পড়ুন: মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা জারি, মানতে হবে যেসব নিয়ম এ গৌরবময় অর্জনে অনুভূতি প্রকাশ করে হাফিজা খানম বলেন, যেকোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কাজের গতি ও দায়িত্ববোধ অনেক বাড়িয়ে দেয়। আমি আমার বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিশুর মেধা ও মনন বিকাশে এবং গোপালগঞ্জ জেলাসহ দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আজীবন কাজ করে যেতে চাই। এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি আমার বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবার যৌথ প্রচেষ্টার ফল। হাফিজা খানমের এই যুগান্তকারী সাফল্যে ৯৯ নং নিলখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস এবং গোপালগঞ্জের সব স্তরের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তারা আশা প্রকাশ করেন, হাফিজা খানম জাতীয় পর্যায়েও ঢাকা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করে শ্রেষ্ঠত্বের অনন্য গৌরব বয়ে আনবেন।
Go to News Site