Collector
পেট্রোলের আগুনে বৃদ্ধ নিহত, মামলা না নেওয়ার অভিযোগে থানা ঘেরাও | Collector
পেট্রোলের আগুনে বৃদ্ধ নিহত, মামলা না নেওয়ার অভিযোগে থানা ঘেরাও
Jagonews24

পেট্রোলের আগুনে বৃদ্ধ নিহত, মামলা না নেওয়ার অভিযোগে থানা ঘেরাও

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল ঢেলে এক বৃদ্ধকে (৬২) হত্যাচেষ্টার ঘটনার চারদিন পর মারা গেছেন ওই বৃদ্ধ। তবে মৃত্যুর তিনদিনেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ, থানা ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে মরদেহ নিয়ে খাতামধুপুর ইউনিয়ন থেকে সাত কিলোমিটার পথ বিক্ষোভ করে থানার প্রধান গেটে এসে সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে থানা ও সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সৈয়দপুর-নীলফামারীগামী শেরে বাংলা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা পর এজাহার নথিভুক্ত করে পুলিশ। এরপরও অবরোধ তুলে না নেওয়ায় সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সড়কে অবস্থানকালে নিহতের স্বজনরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অপসারণ ও শাস্তি দাবি করেন। এর আগে বুধবার (৩ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের শরীরে পেট্রোল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে নেওয়া হয় ঢাকায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান। আফাজ উদ্দিনের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘প্রায় পাঁচ মাস আগে পাতা কুড়ানো নিয়ে একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চল আমার ভাইকে মারধর করে মোবাইল ভেঙে দেয়। মঙ্গলবার (৩ জুন) রাতে তারাগঞ্জ বাজারে আমার ভাইকে আটক করে মারধর করে। চঞ্চলসহ তার পরিবারের লোকজন আমার ভাইকে পুড়িয়ে মারতে ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাক্রমে ভাই পুরাতন বাড়িতে থাকায় আমার বৃদ্ধ বাবা নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তিনদিনেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তাছাড়া ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরা মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও করেছি। আমরা এই অন্যায়ের বিচার চাই।’ এ বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ‘ঘটনার পরই উপপরিদর্শক (এসআই) ঋষিকেশ চন্দ্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত করেছেন। কিন্তু নিহতের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য ব্যস্ত থাকায় কেউ আসতে পারেননি। এজন্য লিখিত অভিযোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। রোববার তারা একটা এজাহার আনলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করতে বলি।’ তিনি বলেন, ‘তারা সংশোধন করতে রাজি হননি। এমনকি আমরা সংশোধন করে দিতে চাইলেও সম্মত না হওয়ায় এই বিলম্ব। আজ সকাল ৯টায় আসার জন্য বললে তারা মরদেহ ও লোকজন নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। বর্তমানে মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আমিরুল হক/এসআর/জেআইএম

Go to News Site