Somoy TV
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ দফায় দফায় প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে চলে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' চলাকালে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ গ্রেফতার হয়েছিলেন। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় ইউপি চেয়ারম্যানের মূল দায়িত্বভার গ্রহণ করতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল তাতে তীব্র আপত্তি জানান। এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ও বিরোধ বিরাজ করছিল।এই দীর্ঘদিনের উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় আজ সোমবার সকালে। এদিন ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন করা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে মূল চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ ও মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে সরাসরি তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর জের ধরে ফরিদ আহমদের সমর্থনে নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এবং কপিলের সমর্থনে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী এক কৃষক বলেন, 'ত্রাণ বিতরণের সময় হঠাৎ দুই নেতার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই চারপাশের গ্রামের মানুষ লাঠিসোটা আর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়। পুরো পরিষদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।'আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ২০সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা-পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ আশেপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, 'চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যকার পূর্ববিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরেই মূলত এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।'
Go to News Site